ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রিন্টিং প্রেসে কথিত দুর্নীতি আর আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করেছে। তবে তদন্ত শুরুর আগেই কমিটির সভাপতি অতিরিক্ত সচিব ইমতিয়াজ হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, আসল দোষীদের আড়াল করে অন্যদের ওপর দোষ চাপানোর চেষ্টা চলছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা প্রকল্পের বই ছাপার দায়িত্বে থাকা ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রিন্টিং প্রেসে প্রেস ম্যানেজার মোহাম্মদ মহিউদ্দিনের নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট নিম্নমানের কাগজ ও ভারতীয় বোর্ড ব্যবহার, নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে কম কাগজ কেনা এবং কমসংখ্যক বই ছাপিয়ে প্রায় ৩ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে জড়িত।
তদন্তের ধরণ নিয়ে অসন্তোষও প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের অভিযোগ, দুর্নীতির মূল কেন্দ্র হিসেবে যাকে দায়ী করা হচ্ছে সেই প্রিন্টিং প্রেসের ভূমিকা না দেখে উল্টো কার্যাদেশ দেওয়া প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দোষী বানানোর চেষ্টা চলছে। তাদের ভাষায়, “বাড়িতে চুরি হওয়ার পর চোরকে না ধরে বাড়ির মালিক কেন দরজা খুলে ঘুমিয়েছিলেন, সেটাকেই অপরাধ হিসেবে দেখানোর মতো অবস্থা তৈরি করা হচ্ছে।”
একই প্রকল্পে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৬৫০ টন সাদা কাগজ কেনার ক্ষেত্রেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, রশিদ পেপার মিলস লিমিটেডকে কার্যাদেশ দেওয়ার পর নির্ধারিত সাদা কাগজের বদলে নিম্নমানের নিউজপ্রিন্ট সরবরাহ করা হয় এবং প্রায় ১০০ টন কাগজ কম দেওয়া হয়। কাগজ, বোর্ড কিংবা কালি কোন আইটেমেরই কোন লটেরই কোন প্রথম থেকে ল্যাবরেটরি টেষ্ট রিপোর্ট নেই।
এতে সরকারের প্রায় ২ কোটি ৮৪ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
সূত্রের দাবি, কাগজ গ্রহণ কমিটির দুই সদস্য আব্দুর রশিদ আল মামুন এবং আনিসুর রহমান নিম্নমানের কাগজ নিতে আপত্তি জানালেও ব্রেস ম্যানেজার মোহাম্মদ মহিউদ্দিনসহ একটি গ্রুপ তাদের ওপর চাপ দেন। পরে উক্ত দুই সদস্যকে সরকার বিরোধী এবং চাকরির ভয় দেখিয়ে চাপ প্রয়োগ করে রিসিভিং শিটে স্বাক্ষর নেওয়া হয় এবং দ্রুত বিলও পরিশোধ করা হয়।
সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, দুর্নীতির মূল কেন্দ্র হিসেবে অভিযুক্ত প্রিন্টিং প্রেসের ভূমিকা না খুঁজে কার্যাদেশ দেওয়া প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দোষী করার চেষ্টা চলছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









