সাংবাদিক কামরুজ্জামান বাবলুকে অপহরণ, হত্যাচেষ্টা, জিম্মি করে নির্যাতন ও অর্থ লুটপাটের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, তার নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং জড়িতদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন সাংবাদিকরা।
এতে বক্তারা বলেছেন, রাষ্ট্রকেই সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও স্বাধীন সাংবাদিকতা নিশ্চিত করতে হবে।
রবিবার (১১ অক্টোবর) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে উক্ত ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সচেতন সাংবাদিক ইউনিটি আয়োজিত মানববন্ধনে একথা বলেন বক্তারা। এ সময় তারা স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর সব ধরনের হস্তক্ষেপ বন্ধেরও দাবি জানান।
মানববন্ধনে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিক, সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও মানবাধিকারকর্মীরা অংশ নেন। সংগঠনের কর্মসূচি সমন্বয়ক সাংবাদিক ও মানবাধিকার সংগঠক মহিন উদ্দিন স্বপন ও এ.এফ.এম রাসেল পাটোয়ারী যৌথভাবে অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, মানুষের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। সাংবাদিক কামরুজ্জামান বাবলুর ঘটনায় অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
ফেডারেশন অব বাংলাদেশ জার্নালিস্ট অর্গানাইজেশন (এফবিজেওর) মহাসচিব ও দৈনিক স্বদেশ বিচিত্রার প্রধান বার্তা সম্পাদক মো. শামছুল আলম বলেন, “সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও নির্যাতনের অভিযোগ স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য উদ্বেগজনক। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের আইনের আওতায় আনতে হবে।”
বাংলাদেশ ফেডারেল ইউনিয়ন অব জার্নালিস্ট (বিএফইউজের) নির্বাহী সদস্য মো. আবু হানিফ বলেন, ৫ আগস্ট গুম, খুন ও অপহরণ চিরতরে নির্মূলের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। এরপরও একজন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকের গুম ও নির্যাতনের শিকার হওয়ার অভিযোগ জাতির জন্য লজ্জাজনক।
তিনি বলেন, সাংবাদিকদের ভয়ভীতি প্রদর্শন ও কণ্ঠরোধের অপচেষ্টা বন্ধ করতে হবে। কামরুজ্জামান বাবলুর ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত এবং তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, গত ৩০ সেপ্টেম্বর রাজধানীর পোস্তগোলা ওভারব্রীজের নীচ থেকে তথ্য দেওয়ার কথা বলে ডেকে নিয়ে অস্ত্রের মুখে কামরুজ্জামান বাবলুকে অপহরণ করে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় নিয়ে যায় বলে তিনি অভিযোগ করেন। এ ঘটনায় তিনি ঢাকার সিএমএম আদালতে মামলা করেন। আদালত মামলাটি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
মানববন্ধনে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের কোষাধ্যক্ষ খন্দকার আলমগীর হোসেন, দৈনিক তরুণ কণ্ঠের সম্পাদক রফিকুল ইসলাম শান্ত, মানবাধিকারকর্মী সেলিম রেজা বাচ্চু, বৈশাখী সংবাদের সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, দৈনিক আগামীর সময়ের স্টাফ রিপোর্টার নোমান মোশাররফসহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন ও মানবাধিকার সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









