সিলেটের গোয়াইনঘাটে দুর্বৃত্তদের ধারালো অস্ত্রের হামলায় বদরুল আলম (৩২) নামে রুস্তুমপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় সাদেক মিয়া নামে আরও একজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
রবিবার (১১ অক্টোবর) ভোর রাতে উপজেলার বিছনাকান্দি ইউনিয়নের গুরাগ্রামে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত বদরুল রুস্তুমপুর ইউনিয়নের হাদারপার গ্রামের মৃত মাওলানা তজম্মুল আলীর ছেলে। রাজনীতির পাশাপাশি তিনি বালু ব্যবসা ও গরুর খামার পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে জানাযায়। আহত সাদেক মিয়া লামা হাদারপার গ্রামের মৃত আব্দুল জব্বারের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোরে ফজরের নামাজের সময় সাদেক মিয়ার চিৎকার শুনে স্থানীয় বাসিন্দা সোনা মিয়া ঘটনাস্থলে এগিয়ে যান। এ সময় তিনি শাহিন ও তুহিন নামে দুজনকে ধারালো ছুলফি দিয়ে বদরুলকে এলোপাতাড়ি আঘাত করতে দেখেন। পরে খবর পেয়ে স্বজনরা ঘটনাস্থল থেকে তাদের উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক বদরুলকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের বড় ভাই ও উপজেলা খেলাফত মজলিসের সাধারণ সম্পাদক আখলাকুল আম্বিয়া জানান, স্থানীয় মনরতল বাজার থেকে ব্যবসায়িক টাকা নিয়ে মোটরসাইকেলে ফেরার পথে গুরাগ্রামের সাহিন, তুহিন ও মামুনসহ কয়েকজন পথরোধ করে তার ভাইকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে।
তবে স্থানীয়দের একটি অংশের দাবি, ভারতীয় সীমান্ত দিয়ে চোরাই পথে আনা গরুর লাইনের আধিপত্য বিস্তার ও চাঁদাবাজ সিন্ডিকেটের অভ্যন্তরীণ বিরোধের জের ধরেই এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটতে পারে। সীমান্ত এলাকা হওয়ায় প্রায়ই এই এলাকা দিয়ে চোরাকারবারীরা ভারত থেকে গরুসহ বিভিন্ন পণ্য নিয়ে আসে। আর এসব চোরাই পণ্য পারাপারে সহযোগিতা করে লাইন সিন্ডিকেটের সদস্যরা। এই লাইন সিন্ডিকেট নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতেই প্রায়ই এক গ্রুপ অপর গ্রুপের মধ্যে হামলা ও বিরোধ নিত্য দিনের ঘটনা।
হত্যাকান্ডের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং নিহত ও আহতের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি জব্দ করেন।
গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওমর ফারুক জানান, এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটনসহ জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে এবং অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









