বরিশাল নগরীর পলাশপুরে আধিপত্য বিস্তার ও মাদক সাম্রাজ্যের বিরোধকে কেন্দ্র করে মৎস্য ব্যবসায়ী বাবুকে প্রকাশ্য দিবালোকে কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যার মূলহোতা হৃদয় সরদার ওরফে 'টোকাই মধু'কে (২৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। কিলিং মিশনের নেতৃত্ব দেওয়া এই দুর্ধর্ষ যুবককে খুনের তিনদিনের মাথায় আজ সোমবার (১৮ মে) নগরীর ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের টিয়াখালী এলাকার একটি বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
কাউনিয়া থানা পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পর থেকেই ঘাতক মধু গ্রেপ্তার এড়াতে টিয়াখালীতে তার আপন চাচার বাসায় আত্মগোপন করেছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (১৫ মে) ফজরের নামাজের পরপরই নগরীর পলাশপুর তিন রাস্তার মোড়ে ওত পেতে থাকা একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী মৎস্য ব্যবসায়ী বাবুর ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। রামদা ও ধারালো ছরা দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কোপানো হয়।
ঘটনাস্থলের আশপাশ থেকে উদ্ধার হওয়া সিসিটিভি ফুটেজ এবং স্থানীয়দের মোবাইল ফোনে ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, পঁচিশোর্ধ্ব যুবক হৃদয় ওরফে মধু নিজেই অত্যন্ত নির্মমভাবে এই হত্যাকাণ্ডের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ঘটনার দিনই উপস্থিত বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ধাওয়া করে মধুর দুই সহযোগীকে হাতেনাতে ধরে পুলিশে সোপর্দ করলেও, মূলহোতা মধু চতুরতার সাথে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।
কাউনিয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সনজিত চন্দ্র নাথ সংবাদমাধ্যমকে জানান, হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ সর্বোচ্চ তৎপরতা শুরু করে। রোববার গভীর রাতে উন্নত তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মধুর সুনির্দিষ্ট অবস্থান নিশ্চিত করা হয়। পরে কাউনিয়া থানার একটি বিশেষ টিম ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের টিয়াখালী এলাকার আরিফ সরদারের বাড়িতে চিরুনি অভিযান চালায়। সেখান থেকেই এই কিলিং মিশনের মাস্টারমাইন্ড মধুকে গ্রেপ্তার করা হয়। বাড়ির মালিক আরিফ সরদার সম্পর্কে মধুর আপন চাচা।
কাউনিয়া থানা পুলিশের সহকারী কমিশনার প্রদীপ কুমার জানিয়েছেন, গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদেই মধু হত্যাকাণ্ডে নিজের সরাসরি সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। এলাকাভিত্তিক মাদক ব্যবসা ও গ্যাং কালচারের আধিপত্য নিয়েই যে এই হত্যাকাণ্ড, তা মধুর দেওয়া প্রাথমিক তথ্যে স্পষ্ট হয়েছে। আপাতত তাকে থানা হেফাজতে রেখে আরও নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
এদিকে পলাশপুরের ত্রাস হিসেবে পরিচিত 'টোকাই মধু' গ্রেপ্তার হওয়ার খবরে স্বস্তি নেমে এসেছে স্থানীয় সাধারণ মানুষের মাঝে। তবে নিহতের শোকার্ত পরিবারের দাবি, কেবল মধুই নয়, এই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনার সাথে আরও যারা জড়িত রয়েছে, তাদের প্রত্যেককে আইনের আওতায় এনে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে ফাঁসির রায় কার্যকর করতে হবে। বর্তমানে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পলাশপুর ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









