কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার জারইতলা ইউনিয়নের বিখ্যাত ‘গুপি রায়ের হাট’ ইজারা নিয়ে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারানোর অভিযোগ উঠেছে। বিগত ১৪৩২ বঙ্গাব্দে জেলার সবচেয়ে বড় এই পশুর হাটটির ইজারামূল্য যেখানে ছিল ৩ কোটি ৭৫ লাখ ৫০ হাজার ৮০০ টাকা, সেখানে চলতি ১৪৩৩ বঙ্গাব্দে তা মাত্র ১ কোটি ২৫ লাখ টাকায় ইজারা দেওয়া হয়েছে। গত বছরের তুলনায় আড়াই কোটি টাকারও বেশি কম মূল্যে হাটটির ইজারা পেয়েছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিএমপি-ডিবি) সাবেক প্রধান হারুন অর রশীদের ক্যাশিয়ার হিসেবে পরিচিত নিকলী উপজেলা পরিষদের অপসারিত চেয়ারম্যান মোকাররম সর্দার।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এই গরুর হাটটি সপ্তাহের প্রতি বুধবার বসে এবং বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সমাগমে এটি জেলার বৃহত্তম পশুর হাটে পরিণত হয়েছে। ৫ই আগস্টের পটপরিবর্তনের পর মোকাররম সর্দার গ্রেপ্তার হলেও সম্প্রতি জামিনে মুক্তি পেয়ে নিজেকে বিএনপির প্রভাবশালী নেতা হিসেবে জাহির করতে শুরু করেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী মহলের সহায়তায় হাটের প্রকৃত সম্ভাব্য আয় গোপন করে প্রথম বিজ্ঞপ্তিতেই তাকে ইজারা পাইয়ে দেওয়া হয়েছে, যেখানে সাধারণত তিনবার বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার বিধান রয়েছে। বিগত বছরের চেয়ে ইজারামূল্য এক-তৃতীয়াংশে নেমে আসার এই ‘তেলেসমাতি কাণ্ড’ নিয়ে জেলাজুড়ে তীব্র সমালোচনা চলছে।
তবে সরকারি রাজস্ব ফাঁকির এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নিকলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রেহানা মজুমদার মুক্তি। তিনি বলেন, "বিগত বছরগুলোতে এই হাটের ইজারামূল্য ছিল মাত্র ২৫ লাখ টাকা। গত বছরের দরটি (পৌনে ৪ কোটি) একটি ব্যতিক্রম ছিল। এবার এত টাকা দিয়ে ইজারা নিতে কেউ আগ্রহী হননি। বিধি অনুযায়ী যিনি সর্বোচ্চ দর দিয়েছেন, তাকেই ইজারা দেওয়া হয়েছে এবং দরদাতার সব ধরনের যোগ্যতা থাকায় তাকে বাদ দেওয়ার কোনো সুযোগ ছিল না।"


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









