লক্ষ্মীপুরের রায়পুর পৌরসভার একমাত্র পশুরহাট এবারও বসছে নতুনবাজার (আশ্রাফগঞ্জ) মহিলা কলেজ সড়কে। অথচ ওই এলাকায় বর্তমানে ড্রেনেজ ও সড়ক নির্মাণকাজ চলমান থাকায় পুরো সড়কজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি। সপ্তাহে দুইদিন বসবে এই হাট -শুক্রবার ও সোমবার। এতে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
বিকল্প স্থান থাকার পরও কেন এমন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় পশুরহাট বসানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে জনমনে দেখা দিয়েছে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্ন।
পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর পশুরহাটটি ৫ লাখ ১০ হাজার টাকায় ইজারা দেওয়া হয়েছে। অথচ গত বছর একই হাট ১২ লাখ টাকায় ইজারা বিক্রি হয়েছিল। কম মূল্যে ইজারা এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় হাট বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে পৌরবাসীর মধ্যে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা।
সরেজমিনে দেখা যায়, মহিলা কলেজ-নতুনবাজার সড়কের দুই পাশে খোঁড়াখুঁড়ি, খোলা ড্রেন, বড় বড় গর্ত ও নির্মাণসামগ্রী পড়ে রয়েছে। কোথাও রড বের হয়ে আছে, কোথাও কাদামাটি। এমন অবস্থার মধ্যেই পশুরহাট বসানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা রায়হান খাঁন বলেন, ‘‘এত ঝুঁকি নিয়ে ওই হাটে গরু কিনতে যাব না। গরুর ছোটাছুটিতে যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।’’
আরেক বাসিন্দা তুহিন বলেন, ‘‘দুই পাশে খোলা ড্রেন, রড আর বড় বড় গর্ত। হাঁটাই যেখানে কষ্টকর, সেখানে হাজার হাজার মানুষ আর গরুর ভিড়ে কী অবস্থা হবে চিন্তা করা যায় না।’’
এ বিষয়ে ইজারাদার ভূইয়া কামাল রায়হান ঝুঁকিপূর্ণ সড়কের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘‘পৌরসভা ইজারা দিয়েছে, আমি টাকা দিয়ে নিয়েছি। বাকিটা পৌর প্রশাসন জানে।’’
রায়পুর পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান কাউছার বলেন, ‘‘ঐতিহ্যবাহী পশুরহাট পৌরবাসীর প্রাণের দাবি। তাই এখানে হাট বসানো হচ্ছে। নিরাপত্তার বিষয়টিও দেখা হবে।’’
তবে বিকল্প স্থান থাকা সত্ত্বেও কেন নির্মাণাধীন ঝুঁকিপূর্ণ সড়কে পশুরহাটের অনুমতি দেওয়া হয়েছে এ প্রশ্নের সরাসরি জবাব দেননি তিনি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দ্রুত নিরাপদ ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









