বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, মানুষের বিপুল আশা নিয়ে সরকার এবং সংসদ গঠিত হবে কিন্তু প্রথম অধিবেশনেই জনগণ আশাহত হয়েছে। সরকার জনগণের ভাষা না বুঝে জন আকাঙ্ক্ষার বিপরীতে অবস্থান নিয়েছে তাই জনগণ মন্ত্রীদের দেখে ভুয়া ভুয়া বলে স্লোগান দিচ্ছে।
শনিবার (২৩ মে) বরিশাল মহানগর জামায়াতের উদ্যোগে দুইদিনব্যাপী রুকন টিসির শেষদিনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘‘সরকার গণভোটে ৭০ ভাগ জনগণের মতামতকে উপেক্ষা করে যে রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি করেছে এটা অপ্রয়োজনীয়। রাজনৈতিক সংকট অনেক বেশি হয়ে যাচ্ছে, যার ফলে মন্ত্রী এমপিদের জনগণ থেকে পালাতে হচ্ছে। জনগণের প্রত্যাশার বিপরীতে অবস্থান নেয়ার ফলে সরকার গঠনের দুই মাসের মধ্যেই সরকার জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে।’’
তিনি বলেন, ‘‘সরকারের আসার আগে জনগণের কাছে যে ওয়াদা করেছে একে একে সেগুলো পদদলিত করে একদলীয় ফ্যাসিবাদের দিকে আগাচ্ছে। আওয়ামী ফ্যাসিবাদী শাসন ব্যবস্থায় যে সংবিধান তৈরি হয়েছে এর মাধ্যমে ফ্যাসিবাদের জন্ম দিচ্ছে, বিএনপি সেই সংবিধান রক্ষার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে।’’
সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ‘‘সাংবিধানিক পথসমূহ জুলুমের হাতিয়ারে পরিণত হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী হতে অসীম ক্ষমতা দেওয়া রয়েছে। এর মাধ্যমে কখনোই ভারসাম্যপূর্ণ সরকার ব্যবস্থা গড়ে উঠতে পারে না। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য ছাত্র-যুবক রাস্তায় জীবন দিয়ে হাসিনা সরকারের মত একটি সরকারকে ক্ষমতা ছাড়তে এবং দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য করেছে সেই ছাত্র জনতার গণদাবি ক্ষমতায় বসেই বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছে।’’
তিনি বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রীর হাতে সাংবিধানিক পথ সমূহের কর্তৃত্ব থাকলে এখানে নিয়োগ হবে দলীয় ভিত্তিতে এবং জনগণ এর সুফল পাবে না। ছাত্র জনতার ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ বলে গুলির সামনে বুক পেতে দেওয়ার যে আকাঙ্ক্ষা নিয়ে বাস্তবায়িত হয়েছিল সে আকাঙ্ক্ষা পদদলিত হচ্ছে।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘৩৩ টি রাজনৈতিক দল দীর্ঘ আলোচনা করে ঐক্যবদ্ধ হয়ে জুলাই সনদ-এর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিল এবং জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় জুলাই স্মারক অনুমোদিত হল। ৮৪টা বিষয়ে সকল রাজনৈতিক দল একমত হল যে, সংবিধান সংশোধনের জন্য রাষ্ট্রপতির প্রজ্ঞাপন দিবে। সংবিধান সংশোধনের জন্য রাষ্ট্রপতি ২৫ সালের ১৩ নভেম্বর গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন একই দিনে হবে বলে প্রঙ্গাপন দিল, যদিও আমরা গণভোট আগে হওয়ার ব্যাপারে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ ছিলাম কিন্তু জনগণের বৃহত্তর স্বার্থে আমরা কোন ভোট এবং জাতীয় নির্বাচন একই দিনে হওয়াটা মেনে নিলাম। বিএনপির দাবির প্রেক্ষিতে গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন একই দিনে হলো এবং এর ফলাফল জনগণ দেখতে পাচ্ছে। গনভোট আগে হলে,পরিস্থিতি এমন হতো না।’’
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সহিংসতায় বিশ্বাস করে না বলে বুকে পাথর চেপে নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়েছে। আমরা এখনই সরকারের পদত্যাগ চাই না। সরকার জনগণের মেন্ডেট নিয়ে পাঁচ বছর দায়িত্ব পালন করবে এবং জনরায়কে আমলে নিয়ে সংবিধান সংশোধন করবে। জনগণকে ভুল বুঝিয়ে বেশি দূর আগানো যাবে না, বিএনপি তার অবস্থান পরিবর্তন না করলে জনগণ আবার রাস্তায় নেমে আসবে।’’
তিনি বলেন, ‘‘ইদানিং জুলাই সনদ মানার ব্যাপারে অনেক মন্ত্রী এমপিরা ঘোষণা দিচ্ছে কিন্তু মানা হবে তাদের নোট অফ ডিসেন্ট দেওয়া ধারাসমূহ বাদ দিয়ে। এতে করে জন প্রত্যাশা পূরণ হবে না। বিএনপির অবস্থা হয়েছে সালিস মানি তালগাছ আমার এই নীতি থেকে সরে এসে জনরায়কে আমলে নিয়ে কোন ভোটে জনগণ যে চারটি বিষয়ে হ্যাঁ দিয়েছে সবগুলো কি মেনে নিতে হবে। সরকার ইচ্ছে করলেই এই সংকট থেকে উত্তরণ করা সম্ভব, আগামী ৭ জুন বাজেট অধিবেশন শুরু হচ্ছে অধিবেশনের শুরুতেই সরকার গণভোটের বিল আনবে এবং পাস করিয়ে দেবে বলে বিশ্বাস করি।’’
কেন্দ্রীয় কর্ম পরিষদ সদস্য ও বরিশাল মহানগর আমির মাওলানা জহির উদ্দিন মু. বাবরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও বরিশাল অঞ্চল তত্ত্বাবধায়ক অ্যাডভোকেট মুয়াযয্ম হোসাইন হেলাল, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ সেক্রেটারি ড.শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি, কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য ও নরাইল জেলা আমির আতাউর রহমান বাচ্চু এমপি, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও বরিশাল অঞ্চল টিম সদস্য মাওলানা এটিএম ফকরুদ্দিন খান রাজি।
মহানগরীর সহকারি সেক্রেটারি মাওলানা আতিকুল্লাহ এর সঞ্চালনায় আরও উপস্থিত ছিলেন মহানগর নায়েবে আমির মাহমুদ হোসাইন দুলাল, মহানগর সেক্রেটারি মাওলানা মতিউর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি মাস্টার মিজানুর রহমান, জামায়াত নেতা শেখ নেয়ামুল করিম, ড.ফয়জুল হকসহ বরিশাল মহানগর নেতৃবৃন্দ।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









