জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক রেষারেষি ও অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে বকুল হোসেন (৪০) নামের এক বিএনপি সমর্থককে নিজ বাড়িতে ঢুকে গুলি ও কুপিয়ে জখম করেছে প্রতিপক্ষের লোকজন।
শনিবার (২৩ মে) দুপুরে উপজেলার আড়িয়া এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।
আহতের পরিবার ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে বকুল হোসেন তার নিজ বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। এ সময় জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক নুরুজ্জামান হাবলু মোল্লার অনুসারী বলে পরিচিত একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী হঠাৎ বকুলের বাড়িতে ঢুকে চারপাশ থেকে তাকে ঘিরে ধরে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই সন্ত্রাসীরা বকুলকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে। এতে একটি গুলি সরাসরি তার পেটে বিদ্ধ হয়। গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে সন্ত্রাসীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে।
বকুলের চিৎকার ও গোলাগুলির শব্দে প্রতিবেশীরা ছুটে এলে হামলাকারীরা অস্ত্র উঁচিয়ে এলাকা ত্যাগ করে। পরে পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়।
বকুলের চাচা এবং স্থানীয় কলেজ শিক্ষক জালাল উদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, ‘‘আমরা দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমাদের পুরো পরিবার উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও বর্তমান সংসদ সদস্য রেজা আহমেদ বাচ্চুর পক্ষে সক্রিয়ভাবে কাজ করি। কিন্তু ওই একই আসনে বিএনপি থেকে দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছিলেন নুরুজ্জামান হাবলু মোল্লা। সেই নির্বাচন থেকেই হাবলু মোল্লা ও তার লোকজনের সাথে আমাদের তীব্র রাজনৈতিক রেষারেষি চলে আসছিল। এই পুরোনো শত্রুতার জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে আমার ভাতিজা বকুলকে হত্যার উদ্দেশ্যে এই হামলা চালানো হয়েছে।’’
ঘটনার বিষয়ে জানতে এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা নুরুজ্জামান হাবলু মোল্লার ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। ফলে এই ঘটনায় তার বা তার অনুসারীদের কোনো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এদিকে ঘটনার পর পরই এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে স্থানীয় থানা পুলিশ।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম আরিফুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, হামলার ঘটনাটি আমরা খতিয়ে দেখছি। তবে কে বা কারা গুলি করেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
তিনি আরও জানান, গুলিবিদ্ধ বকুল হোসেন কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় এবং তার অবস্থা গুরুতর হওয়ায় এখনো পুলিশ তার আনুষ্ঠানিক জবানবন্দি রেকর্ড করতে পারেনি। তবে এই ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ বা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। অভিযোগ পাওয়া মাত্রই অপরাধীদের গ্রেপ্তারে কঠোর আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
বর্তমানে ওই এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশি নজরদারি জোরদার করা হয়েছে বলে থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









