কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট ফজলুর রহমানের উদ্যোগে মেঘনা নদীতে অষ্টগ্রামের বাঙালপাড়া-নোয়াগাঁও সড়ক ও নোয়াগাঁও গ্রামকে নদীভাঙনের হাত থেকে রক্ষায় ড্রেজিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এতে স্বস্তি ফিরেছে স্থানীয়দের মধ্যে।
শনিবার (২৩ মে) দুপুরে উপজেলার বাঙালপাড়া ইউনিয়নের নাজিরপুর সংলগ্ন মেঘনা নদীতে ড্রেজিং কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।
অনুষ্ঠানে অষ্টগ্রাম উপজেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাঈদ আহম্মেদ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতি বর্ষা মৌসুমে মেঘনা নদীর ভাঙনের কারণে নোয়াগাঁও গ্রাম ও বাঙালপাড়া-নোয়াগাঁও সড়কটি হুমকির মুখে পড়ে। দীর্ঘ প্রায় এক দশক ধরে এলাকাবাসী পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে ভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছিলেন। তবে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ না থাকায় ভাঙন ক্রমেই তীব্র আকার ধারণ করে।
স্থানীয়দের দাবি, ভাঙনকবলিত এলাকার ঠিক বিপরীত পাশে মেঘনা নদীতে নতুন চর জেগে ওঠায় নদীর স্বাভাবিক গতিপথ পরিবর্তিত হয়েছে। এর প্রভাবে গত এক থেকে দেড় বছরে অষ্টগ্রাম-নোয়াগাঁও সড়কের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সময়ে প্রায় ৩৫০ একর বোরো আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বলেও তারা জানান।
জানা যায়, প্রায় সাত বছর আগে ৪৪ কোটি টাকা ব্যয়ে বাঙালপাড়া থেকে নোয়াগাঁও পর্যন্ত সড়কটি নির্মাণ করা হয়। সম্প্রতি ১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে সড়কটির সংস্কারকাজ চলছিল। কিন্তু সংস্কারকাজ চলাকালে নদীভাঙনের তীব্রতায় সড়কের প্রায় এক কিলোমিটার অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়।
সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান বলেন, “অষ্টগ্রামের মানুষের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগ পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে। নদীভাঙন সমস্যার স্থায়ী সমাধানে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে।”
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে ভাঙনরোধে বালুভর্তি প্রায় ৮ হাজার বস্তা ফেলার কাজও চলমান রয়েছে।
স্থানীয়দের আশা, ড্রেজিং ও প্রতিরোধমূলক অন্যান্য ব্যবস্থা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে নোয়াগাঁও গ্রাম, গুরুত্বপূর্ণ সড়ক এবং আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা নদীভাঙনের ঝুঁকি থেকে রক্ষা পাবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









