সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কুষ্টিয়া শহর শাখার রুকন আলী আহসান মুজাহিদকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
সোমবার (২৫ মে) কুষ্টিয়া জেলা শাখার সেক্রেটারি অধ্যাপক সুজা উদ্দিন জোয়ার্দ্দার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, কুষ্টিয়া শহর শাখার রুকন আলী আহসান মুজাহিদকে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে সোমবার (২৫ মে) রুকনিয়াত (সদস্য) পদ থেকে বহিষ্কার করা হলো। এখন থেকে তার ব্যক্তিগত কোনো কার্যক্রমের দায় সংগঠন বহন করবে না।
এদিকে একই দিনে বহিষ্কারাদেশের পূর্বে আলী আহসান মুজাহিদ জেলা আমীর বরাবর রুকন পদ থেকে অব্যাহতি চেয়ে একটি লিখিত আবেদন জমা দিয়েছিলেন বলে জানা গেছে। তিনি কুষ্টিয়া সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
পদত্যাগপত্রে আলী আহসান মুজাহিদ দলীয় নেতৃত্বের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে উল্লেখ করেন, কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতে ইসলামীর কিছু নেতৃবৃন্দের পক্ষপাতমূলক আচরণ, সাংগঠনিক ন্যায়বিচারের অভাব এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্যের অভাব তাকে মানসিকভাবে ব্যথিত ও হতাশ করেছে। এই ব্যক্তিগত ও নীতিগত কারণে তিনি স্বেচ্ছায় রুকন পদ থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নেন।
আলী আহসান মুজাহিদের পদত্যাগপত্রের নিচে কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যাপক সুজা উদ্দিন জোয়ার্দ্দার লাল কালিতে একটি বিশেষ দ্রষ্টব্য লিখে আবেদনটি নাকচ করে দেন। সেখানে লেখা রয়েছে- ইতিমধ্যে জেলা কর্মপরিষদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের প্রেক্ষিতে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার হওয়ায় আবেদন গৃহীত নয়।
একই দিনে একদিকে নেতার পদত্যাগপত্র জমা এবং অন্যদিকে জেলা কমিটির পক্ষ থেকে তাকে স্থায়ী বহিষ্কারের এই ঘটনাটি স্থানীয় রাজনৈতিক ও সচেতন মহলে বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
এই বিষয়ে জানতে আলী আহসান মুজাহিদের মোবাইল নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাৎক্ষণিকভাবে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যাপক সুজা উদ্দিন জোয়াদ্দার বলেন, ‘‘কুষ্টিয়া শহর শাখার রুকন আলী আহসান মুজাহিদকে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে জবাব দেবার জন্য রবিবার (২৪ মে) দলের এক মিটিংয়ে তাকে ডাকা হয়। তিনি মিটিংয়ে উপস্থিত হননি। এরপর সোমবার (২৫ মে) সকালে দলীয় মিটিং ডাকা হয়। এই মিটিং দলীয় সিন্ধান্ত মোতাবেক তাকে দলের রুকনিয়াত থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বিষয়টা বোঝার পরপরই তিনি অব্যাহতিপত্র জমা দেন। তবে জেলা কর্মপরিষদের সিদ্ধান্তক্রমে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের প্রেক্ষিতে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার হওয়ায় আবেদন গৃহীত হয়নি।’’


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









