সারাদেশে চাল সরবরাহের অন্যতম প্রধান উৎস ও 'চালের রাজধানী' খ্যাত কুষ্টিয়ার খাজানগর, বটতৈল, কবুরহাট, আইলচারা ও পোড়াদহ এলাকার অটো রাইস মিলগুলোর অনিয়ন্ত্রিত দূষণ নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান নিয়েছে জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর। সম্প্রতি কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে রাইস মিলের দূষণরোধে করণীয় বিষয়ক এক জরুরি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভায় মিল মালিক, পরিবেশ অধিদপ্তর এবং খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে ১১ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদারকি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
তদারকি কমিটি সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে এসব মিলের ছাই, কালো ধোঁয়া, তুষের কুঁড়ো, ফুটন্ত গরম পানি ও কেমিক্যাল মিশ্রিত তরল বর্জ্য আশপাশের পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি করছে। সভায় কুষ্টিয়া পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ এমদাদুল হক পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে দূষণ নিয়ন্ত্রণে চিমনিত ইটিপি স্থাপন, ছাই থেকে জৈব সার তৈরি ও জালের ব্যবহারসহ বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট ও কার্যকর প্রস্তাব তুলে ধরেন।
মতবিনিময় সভায় 'মিয়াভাই অটো রাইস মিল'-এর স্বত্বাধিকারী মোঃ জয়নাল আবেদীন প্রধান অকপটে পরিবেশ দূষণের বিষয়টি স্বীকার করেন। যান্ত্রিক ত্রুটি মেরামতের জন্য তিনি প্রশাসনের কাছে ২ মাস সময় প্রার্থনা করেন। অন্যদিকে, 'রশিদ এগ্রো ফুড প্রোডাক্টস'-এর স্বত্বাধিকারী আব্দুর রশিদ পরিবেশ অধিদপ্তরের নবায়ন ফি বৃদ্ধির বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রশাসনিক ও কারিগরি সহযোগিতার অনুরোধ জানান। 'শামীম এগ্রো ফুড প্রোডাক্টস'-এর স্বত্বাধিকারী হাজী মোঃ জামসের আলী আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি অনুকরণের আশ্বাস দেওয়ার পাশাপাশি অভিযোগ করেন, সাধারণ গৃহস্থালি বর্জ্য জিকের ক্যানেলে ফেলে ভরাট করা হলেও সব দোষ রাইস মিল মালিকদের ওপর চাপানো হয়।
কুষ্টিয়ার জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোঃ আল-ওয়াজিউর রহমানের প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে সভায় এই মনিটরিং কমিটি গঠন করা হয়। জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রককে সভাপতি এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালককে সদস্য সচিব করে গঠিত এই কমিটিতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, সওজ, পানি উন্নয়ন বোর্ড, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও মিল মালিকদের প্রতিনিধিরা রয়েছেন।
কমিটির মূল কার্যপরিধির মধ্যে রয়েছে—মিলগুলোর পরিবেশ ছাড়পত্র ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সরেজমিনে যাচাই করা, নির্গত তরল বর্জ্য ও গরম পানির চূড়ান্ত নিষ্কাশন স্থান চিহ্নিত করা এবং রাস্তাঘাটের ওপর অবৈধভাবে তুষ বা মালামাল রেখে সড়কের অপব্যবহার রোধ করা।
কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) জাকির হোসেন এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ এমদাদুল হক যৌথভাবে জানান, দেশের খাদ্য নিরাপত্তায় রাইস মিলের অবদান যেমন অনস্বীকার্য, তেমনি পরিবেশ ধ্বংস করে কোনো শিল্প প্রতিষ্ঠান চলতে দেওয়া হবে না। যারা পরিবেশ আইন অমান্য করবে এবং ইটিপি বা যথাযথ ডাস্ট কন্ট্রোল সিস্টেম স্থাপন করবে না, তাদের লাইসেন্স বাতিলসহ মিলগুলো সিলগালা করে দেওয়া হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









