পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় কোরবানির গরুর চামড়া ‘পানির দরে’ বিক্রি হয়েছে। ১০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৩০০ টাকায় চামড়া কিনে বড় ক্রেতাদের কাছে চামড়া বিক্রি করতে এসে বিপাকে পড়েছেন মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীরা। কেউ কেউ ১০০-৩০০ টাকা বিক্রি করতে পারলেও আবার বিভিন্ন এলাকায় ক্রেতা না আসায় মাদ্রাসায় আল্লাহ ওয়াস্তে দিয়ে দিচ্ছে।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে তথ্য অনুযায়ী, মঠবাড়িয়ায় প্রায় ৫ হাজার গরু, ৭’শ ছাগল কোরবানি করা হয়েছে। চামড়ার ন্যায্য মূল্য না পেয়ে কোরবানি দাতা ও চামড়ার অংশীদাররা হতাশায় ভুগছেন।
চলতি বছর কোরবানির মৌসুমে সরকারিভাবে ঢাকার বাইরে লবণযুক্ত কাঁচা চামড়ার সর্বনিম্ন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি বর্গফুট ৫৭ থেকে ৬২ টাকা। খাসির চামড়া সারা দেশে ২৫ থেকে ৩০ টাকা নির্ধারণ করা হলেও চামড়া কিনছেন না ক্রেতারা।
স্থানীয় বাসিন্দা মিজানুর রহমানের সাথে কথা বলে জানা যায়, ১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকার গরু কিনে চামড়া বিক্রি করেছেন ২০০ টাকায় আর মাঝারি ও ছোট গরুর চামড়া ১০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। আবার কেউ মাদ্রাসায় দিয়ে দিচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ‘‘ছাগলের চামড়া কেনার মতো আগ্রহ নেই বললেই চলে। আমার ছাগলের চামড়া এখনো পড়ে আছে এতিমখানা,মাদ্রাসাও নিতে চায় না।’’
উপজেলার চামড়া ব্যবসায়ী নান্টু রবি দাস জানান, গত কয়েক বছর চামড়া ব্যবসায়ী যারা ছিল সবাই ক্ষতিগ্রস্ত। ব্যবসায় লস দিতে দিতে সবাই ঘরে ঢুকে গেছে। এ বছর ১০০-৩০০ টাকায় চামড়া কিনেছি। ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার পরে লাভও হতে পারে, লসও হতে পারে।
আরেক মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ী জয় হালদার বলেন, ‘‘বেশি দাম দিয়ে চারটি গরুর চামড়া কিনে শহরে বিক্রি করতে নিয়ে আসলে দাম ৩০০-৪০০ টাকা বলে। আমরা দেশের ভালো চাই, সেজন্য চামড়া বিক্রি করতে নিয়ে আসি। কিন্তু ন্যায্য মূল্য পাই না।’’
উপজেলা ভেটেরিনারি সার্জন জুনায়েদ রহমান জানান, মঠবাড়িয়ায় প্রায় ৫ হাজার গরু, ৭ শ ছাগল কোরবানি করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন থেকে বিনামূল্যে লবণ বিতরণ করা হয়েছে এবং সরকার নির্ধারিত মূল্যে চামড়া ক্রয়- বিক্রয় করার নির্দেশনা রয়েছে। সঠিকভাবে চামড়া সংরক্ষণ করতে পারলে পরবর্তীতে ভালো মূল্যে বিক্রি করতে পারবেন ব্যবসায়ীরা।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









