পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় একদিনে জোড়া খুনের ঘটনা ঘটেছে। থানা পুলিশ রবিবার (৩১ মে) সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে লাশ দুটি উদ্ধার করেছে।
এদিকে ওই এলাকায় আরও এক ব্যবসায়ী নিখোঁজ রয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
চাঞ্চল্যকর এ ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহত ও নিখোঁজ হওয়া তিন ব্যক্তিই উপজেলার দক্ষিণ আমড়াগাছিয়া গ্রামের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত সাগর হাওলাদার (৪০) দক্ষিণ আমড়াগাছিয়া গ্রামের নুরুজ্জামান কালুর ছেলে। তিনি পেশায় একজন মোটরসাইকেল চালক ছিলেন। শনিবার (৩০ মে) বিকেল ৪টার দিকে তিনি ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালানোর উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হন। রাতে তার ফিরতে দেরি হবে বলে স্ত্রীকে জানান। পরে রাতে কে বা কারা বাড়ির পিছনে লাশ রেখে যায়।
সাগরের মেঝ ভাই রাজু জানান, রাত আনুমানিক ১টার দিকে অজ্ঞাত কয়েকজন ব্যক্তি সাগরের বাড়ির সামনে এসে ডাক দেয়, বাড়িতে কেউ আছেন? সাগরের মেজো ভাই ডাক শুনে ছোট ভাইকে সাথে নিয়ে ঘরের বাইরে বের হন। বাইরে কাউকে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি করার একপর্যায়ে তারা ঘরের পেছনে সাগরের মাটিমাখা লাশ পড়ে থাকতে দেখেন।
এদিকে একই গ্রামের নূর মোহাম্মদ বেপারীর ছেলে কৃষক আবদুর রশিদ বেপারীর (৪৫) মরদেহ গ্রামের একটি মাদ্রাসার বারান্দা থেকে উদ্ধার করা হয়।
দুই সন্তানের জনক আবদুর রশিদ শনিবার (৩০ মে) রাত ১১টার দিকে একটি ফোন পেয়ে বাড়ি থেকে বের হন। এরপর আর তিনি ঘরে ফেরেননি। রবিবার সকাল ৬টার দিকে স্থানীয় এলাকাবাসী নেহালিয়া মাদ্রাসার পাশের হাফিজি মক্তবখানার বারান্দায় তার লাশ পড়ে থাকতে দেখে পরিবার ও পুলিশে খবর দেয়।
অন্যদিকে একই রাতে ওই এলাকা থেকে ইউসুফ পেয়াদা (৪৫) নামের এক ব্যবসায়ী নিখোঁজ হয়েছেন। তিনি একই গ্রামের সাত্তার পেয়াধার ছেলে।
ইউসুফের পরিবার জানায়, শনিবার (৩০ মে) বিকেল ৪টার দিকে বাবার বাড়িতে থাকা স্ত্রীর সাথে মোবাইলে ইউসুফের শেষ কথা হয়েছিল। এরপর থেকে তার মোবাইর বন্ধ দেখে বাড়িতে খোঁজ নিয়ে কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। পরপর দুটি লাশের ঘটনায় নিখোঁজ ব্যবসায়ীর পরিবার এখন চরম উৎকণ্ঠার সময় কাটাচ্ছে।
আমড়াগাছিয়া ইউনিয়নের একই ওয়ার্ডের তিনজনের সাথে এমন লোমহর্ষক ঘটনায় এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
মঠবাড়িয়া সার্কেল অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পার্থ চক্রবর্তী (পিপিএম) বলেন, ‘‘খবর পেয়েই পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। একই সাথে নিখোঁজ ব্যবসায়ীকে উদ্ধার এবং এই জোড়া খুনের রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশের একাধিক টিম তদন্ত শুরু করেছে।’’


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









