আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ অভিযোগ করে বলেছেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে খাল খনন প্রকল্পের আড়ালে ব্যাপক অনিয়ম ও অর্থ লুটপাটের মহোৎসব চলছে। প্রকৃত প্রয়োজনের খালগুলো উপেক্ষা করে ইতোমধ্যে খননকৃত খালের পাশে নতুন প্রকল্প গ্রহণের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় অর্থ অপচয় করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
মঙ্গলবার (২ জুন) সকালে বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার মাধবপাশা বাজার এলাকায় এবি পার্টির কার্যালয়ে আয়োজিত ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় ও মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, ‘‘দেশজুড়ে খাল খননের নামে যে প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, সেগুলোর অনেকগুলো নিয়ে স্থানীয় জনগণ ও বিশেষজ্ঞদের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। যেসব খাল অন্য সরকারি সংস্থা ইতোমধ্যে খনন করেছে, সেগুলোর পাশেই আবার নতুন করে খনন প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। অথচ যেসব খাল দীর্ঘদিন ধরে পুনঃখননের অপেক্ষায় ছিল এবং যেগুলোর জন্য বরাদ্দ অনুমোদনও দেওয়া হয়েছিল, সেগুলোর অনেকগুলোই রহস্যজনকভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘প্রকৌশল বিশেষজ্ঞদের মতে, এক কিলোমিটার খাল খননে সাধারণত ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকার বেশি ব্যয় হওয়ার কথা নয়। কিন্তু বাস্তবে অনেক প্রকল্পে প্রতি কিলোমিটারে ৭০ থেকে ৮০ লাখ টাকা পর্যন্ত বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। এই অতিরিক্ত ব্যয়ের পেছনের কারণ জনগণের সামনে স্পষ্ট করা প্রয়োজন।’’
সরকারের বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির প্রচার ব্যয় নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এবি পার্টির এই নেতা বলেন, ‘‘জনগণের কল্যাণের নামে নানা ধরনের কার্ড ও সহায়তা কর্মসূচি চালু করা হচ্ছে। কিন্তু এসব কর্মসূচির প্রচারণার জন্য যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে, তা উদ্বেগজনক। জনগণের জন্য সামান্য ব্যয় করা হলেও তার প্রচারে কয়েকশ গুণ বেশি অর্থ খরচ করা হচ্ছে।’’
ব্যারিস্টার ফুয়াদ দাবি করেন, ‘‘সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির প্রচারণার জন্য ৪১২ কোটি টাকার একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে, যার আওতায় সারা দেশে প্রায় ৪৪ হাজার বিলবোর্ড স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।’’
এ ধরনের প্রকল্পের ব্যয় ও বাস্তব প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘‘জনগণের করের অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে উন্নয়ন প্রকল্পগুলো জনগণের আস্থার পরিবর্তে সন্দেহের কারণ হয়ে দাঁড়াবে।’’
তিনি সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয়, বাস্তবায়ন ও বরাদ্দ ব্যবস্থাপনা জনসম্মুখে প্রকাশ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘‘জনগণের অর্থে পরিচালিত প্রতিটি প্রকল্পের হিসাব জনগণের কাছেই দিতে হবে। উন্নয়নের নামে অপচয় ও অনিয়মের সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে।’’
মাধবপাশা ইউনিয়ন শাখার আহ্বায়ক আব্দুল আজিজ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ইঞ্জিনিয়ার জি এম রাব্বী, কর্নেল (অব.) আব্দুল খালেক, মো. মোহেবর, সিদ্দিকুর রহমান, কামরুল ইসলাম এবং ইউনিয়ন শাখার সদস্য সচিব মো. জামাল আকন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, স্থানীয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, জনগণের জীবনমান এবং দলীয় সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করেন। একই সঙ্গে আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে নেতাকর্মীদের মধ্যে শুভেচ্ছা বিনিময় ও সাংগঠনিক ঐক্য সুদৃঢ় করার আহ্বান জানানো হয়।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









