বরিশালের উজিরপুর উপজেলার গুঠিয়া এলাকায় এক সংখ্যালঘু পরিবারের পৈত্রিক সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক মাদ্রাসা শিক্ষক ও রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্তের বিচার এবং দখলকৃত জমি উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।
বুধবার (৪ জুন) সকালে উপজেলার গুঠিয়া ইউনিয়নের বালা বাড়ি কীর্ত্তন আঙ্গিনায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন অসীম কুমার দাস, সুব্রত কুমার দাস ও সুশান্ত কুমার দাস।
অভিযোগ করেন, গুঠিয়া মৌজার এসএ ৪২ নম্বর খতিয়ানভুক্ত এসএ ৪০৮ নম্বর দাগের ১১ শতাংশ জমির বৈধ মালিক তারা। পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত ওই জমি দীর্ঘদিন ধরে তাদের পরিবার ভোগদখলে রেখে আসলেও স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি, চরমোনাই আলিম মাদ্রাসার শিক্ষক এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের উজিরপুর উপজেলা শাখার মুজাহিদ কমিটির সভাপতি মাসুদ হাসান ফিরোজ জোরপূর্বক জমিটি দখল করে সেখানে বহুতল ভবন নির্মাণ করছেন।
ভুক্তভোগীরা বলেন, জমি নিয়ে ঝামেলা মেটাতে এলাকায় কয়েকবার বসার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু অভিযুক্ত ব্যক্তি নানা অজুহাতে তা হতে দেননি। উল্টো তাদের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি এবং ভয়ভীতি দেখান।
তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে তারা জমি ফিরে পাওয়ার জন্য বিভিন্ন জায়গায় ঘুরেছেন, কিন্তু কোনো কার্যকর সমাধান পাননি। এমনকি জমি নিয়ে প্রতিবাদ করায় তাদের পরিবারকে বিভিন্ন সময় হুমকি-ধমকির মুখোমুখি হতে হয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে। সে সময় কিছু লোকজনের মাধ্যমে তাদের পরিবারকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয় এবং এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা বলেন, আমরা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের ভিটেমাটি রক্ষার জন্য লড়াই করে যাচ্ছি। জমি দখল ও নানা হুমকির কারণে আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছি। পরিবার-পরিজন নিয়ে আতঙ্কে বসবাস করছি।
বিষয়টি পরবর্তীতে উজিরপুর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও গুঠিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. শাহিন হাওলাদার এবং গুঠিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. লাভলু হোসেনকে অবহিত করা হলে তাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়। বর্তমানে তারা নিজ বাড়িতে অবস্থান করতে পারলেও আতঙ্ক এখনো কাটেনি।
এ সময় তারা বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান, বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য এস সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু এবং প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
তবে অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও মাসুদ হাসান ফিরোজের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
এ ব্যাপারে উজিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ রকিবুল ইসলাম বলেন, জমি সংক্রান্ত বিষয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে সংবাদ সম্মেলনের পর বিষয়টি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার প্রশাসনের নিরপেক্ষ তদন্ত ও দ্রুত হস্তক্ষেপের মাধ্যমে তাদের পৈত্রিক সম্পত্তি ফেরত পাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









