মেগাপ্রকল্পের সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়া দেশের পরিচিত বাস্তবতা। তবে এবার ব্যতিক্রমী নজির গড়ল ‘সিলেট-চারখাই-শেওলা’ চারলেন মহাসড়ক প্রকল্প। দীর্ঘদিন কাজ শুরু না হলেও আন্তর্জাতিক দরপত্রে তীব্র প্রতিযোগিতার কারণে প্রকল্পটির নির্মাণ ব্যয় প্রায় ৬০০ কোটি টাকা কমে গেছে।
সম্প্রতি সরকারের ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি এই প্রকল্পের পূর্তকাজের জন্য ২ হাজার ৫০৬ কোটি টাকা ব্যয়ের অনুমোদন দিয়েছে। যেখানে সওজ’র প্রাথমিক প্রাক্কলিত ব্যয় ছিল প্রায় ৩ হাজার ১০০ কোটি টাকা। দরপত্র মূল্যায়নের পর মূল প্রাক্কলন থেকে প্রায় ২০ শতাংশ কম মূল্যে কাজ বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হওয়ায় এই বড় অঙ্কের সাশ্রয় সম্ভব হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ) কর্তৃক আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান করা হলে তিনটি লটের বিপরীতে মোট ৪৭টি প্রস্তাব জমা পড়ে। এর মধ্যে ৩৯টি কারিগরিভাবে গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হয়। তীব্র প্রতিযোগিতাপূর্ণ এই দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির চূড়ান্ত সুপারিশের ভিত্তিতে সর্বনিম্ন দরদাতাদের নির্বাচিত করায় সরকারের ৫৯৩ কোটি টাকা সাশ্রয় হয়েছে।
প্রকল্পের অবকাঠামো উন্নয়ন কাজকে মোট তিনটি লটে ভাগ করে বাস্তবায়ন করা হবে।
লট-১: মনিকো লিমিটেড (বাংলাদেশ) ও চায়না রেলওয়ে নম্বর ফোর ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপের (চীন) যৌথ উদ্যোগ। চুক্তিমূল্য ১ হাজার ৯৯ কোটি টাকা।
লট-২: চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশন (চীন)। চুক্তিমূল্য ৮১৬ কোটি টাকা।
লট-৩: এনডিই (বাংলাদেশ) ও আরবিসিজির (চীন) যৌথ উদ্যোগ। তাদের চুক্তিমূল্য ৫৯০ কোটি টাকা।
প্রকল্পের মূল অবকাঠামো ও নকশা সিলেট-চারখাই-শেওলা স্থলবন্দরের ৪২ দশমিক ৯৮৫ কিলোমিটার মহাসড়ককে চার লেনে উন্নীত করার পাশাপাশি দুই পাশে ধীরগতির যানবাহনের জন্য দুটি ডেডিকেটেড সার্ভিস লেন থাকবে।
এ ছাড়া যানজট এড়াতে গোলাপগঞ্জ পৌর এলাকায় ৬০০ মিটার দীর্ঘ একটি ফ্লাইওভার এবং চারখাই ও হেতিমগঞ্জ বাজারে ৩০০ মিটার দৈর্ঘ্যের দুটি পৃথক ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি রানাপিং ও রামধা বাজারে আরও দুটি ছোট ফ্লাইওভারের পরিকল্পনা রয়েছে।
২০২৩ সালের ১১ এপ্রিল একনেক সভায় অনুমোদিত এই প্রকল্পের মূল মেয়াদ ছিল ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। তবে গত দুই বছরে মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু না হওয়ায় নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করা সম্ভব নয়।
প্রকল্পের অতিরিক্ত প্রকল্প পরিচালক উৎপল সামন্ত জানান, বাস্তবতার নিরিখে প্রকল্পের মেয়াদ আরও দুই বছর বাড়ানোর বিষয়টি সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে।
এদিকে ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ায় কিছুটা বিলম্বের কথা স্বীকার করে সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারোয়ার আলম জানান, সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের ভূমি অধিগ্রহণের ব্যস্ততার কারণে এই প্রকল্পের কাজ কিছুটা পিছিয়েছে। তবে সংশ্লিষ্টদের সাথে একাধিক বৈঠক হয়েছে এবং আগামী আগস্টের মধ্যেই ভূমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে সিলেট অঞ্চলের যোগাযোগ ও অর্থনীতিতে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। এর মাধ্যমে উপকৃত হবে সিলেটের দক্ষিণ সুরমা, গোলাপগঞ্জ, বিয়ানীবাজার, কানাইঘাট ও জকিগঞ্জ উপজেলা। এ ছাড়াও মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা, জুড়ী ও কুলাউড়া উপজেলার যোগাযোগব্যবস্থায়ও আমূল পরিবর্তন আনবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









