সংবিধান ও সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি সম্পর্কে সংসদ সদস্যদের সুস্পষ্ট ও গভীর জ্ঞান সংসদীয় গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী, কার্যকর এবং জবাবদিহিমূলক করে তুলবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
তিনি বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণ, আইন প্রণয়নে সক্রিয় ভূমিকা রাখা এবং নির্বাহী বিভাগের কার্যক্রমের ওপর কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করতে সংসদ সদস্যদের সাংবিধানিক ও সংসদীয় বিধিব্যবস্থা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা অত্যন্ত জরুরি।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) জাতীয় সংসদ ভবনের শপথ কক্ষে ‘সংবিধান, কার্যপ্রণালি-বিধি ও সংসদীয় কার্যক্রম’ শীর্ষক এক ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। এছাড়া বিরোধীদলীয় নেতা, চিফ হুইপ, জাতীয় সংসদের সচিব, ইউএনডিপির প্রতিনিধি এবং সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ডেপুটি স্পিকার বলেন, বাংলাদেশের সংবিধান রাষ্ট্র পরিচালনার সর্বোচ্চ আইন এবং সংসদীয় গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি। তিনি সংবিধানের ৬৪, ৭৪, ৭৬ ও ৭৮ অনুচ্ছেদসহ গুরুত্বপূর্ণ ধারাগুলোর তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, এসব বিধান সংসদের কাঠামো, কমিটি ব্যবস্থা, সংসদ সদস্যদের দায়িত্ব ও জবাবদিহিতা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তিনি আরও বলেন, সংসদের কার্যপ্রণালি-বিধি কেবল আনুষ্ঠানিক নিয়মের সমষ্টি নয়, বরং এটি সংসদীয় কার্যক্রম পরিচালনার একটি কার্যকর দিকনির্দেশনা। আইন প্রণয়ন, প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশগ্রহণ, নোটিশ প্রদান, প্রস্তাব ও সংশোধনী উত্থাপন, ভোটদান প্রক্রিয়া এবং বিভিন্ন সংসদীয় উপকরণ ব্যবহারের ক্ষেত্রে এই বিধি সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা থাকা অপরিহার্য।
ওরিয়েন্টেশন কোর্সে সংবিধানের মৌলিক বিষয়, সংসদীয় রীতি-নীতি, আলোচনার পদ্ধতি, বিভিন্ন ধরনের নোটিশ ও প্রস্তাব, প্রশ্নোত্তর পর্বের গুরুত্ব, স্থায়ী কমিটির কার্যাবলি এবং নির্বাহী বিভাগের জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণে সংসদের ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
সংসদ সদস্যদের উদ্দেশ্যে ডেপুটি স্পিকার বলেন, সংসদে নিয়মিত উপস্থিতি, সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং গঠনমূলক বিতর্কের মাধ্যমে জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো যথাযথভাবে উপস্থাপন করা একজন জনপ্রতিনিধির অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। সংসদীয় বিতর্কের মধ্য দিয়ে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা, সমস্যা ও সম্ভাবনার প্রতিফলন ঘটাতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সংসদের কাছে সরকার ও সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠান দায়বদ্ধ। তাই সংসদের কার্যকারিতা ও মর্যাদা বজায় রাখতে কোরাম নিশ্চিত করা, সংসদীয় শৃঙ্খলা রক্ষা এবং কমিটিগুলোকে আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলোর তদারকি ও পর্যালোচনামূলক ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, সংসদ সদস্যদের বিশেষ অধিকার যেমন সংরক্ষণ করতে হবে, তেমনি তা দায়িত্বশীল ও গণতান্ত্রিকভাবে প্রয়োগ করাও সমানভাবে জরুরি।
ডেপুটি স্পিকার বলেন, সংসদ কেবল আইন প্রণয়নের স্থান নয়, বরং এটি জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা, মতামত ও স্বার্থের প্রতিনিধিত্বকারী সর্বোচ্চ গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান। সংসদ সদস্যদের জ্ঞানভিত্তিক, দায়িত্বশীল ও কার্যকর ভূমিকা সংসদের মর্যাদা বৃদ্ধি এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে আরও শক্তিশালী করতে সহায়তা করে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের ওরিয়েন্টেশন কর্মসূচি নবনির্বাচিত ও বর্তমান সংসদ সদস্যদের সংসদীয় কার্যক্রম সম্পর্কে আরও দক্ষ ও আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে এবং সংসদের সামগ্রিক কার্যকারিতা বাড়াতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









