সুন্দরবনে প্রবেশের ওপর সরকারি নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও থেমে নেই বিষ দিয়ে মাছ শিকারি ও অবৈধ অনুপ্রবেশকারী দুর্বৃত্তদের তৎপরতা। তবে প্রশাসনিক কঠোর নজরদারির মাধ্যমে সুন্দরবনের অভ্যন্তরে গড়ে তোলা মৎস্য আহরণ ও শুঁটকি প্রক্রিয়াকরণের একটি আস্তানার সন্ধান পেয়ে তা ধ্বংস করে দিয়েছে বনরক্ষীরা। গত শুক্রবার (৫ জুন) পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের চরাপূটিয়া টহল ফাঁড়ির শিয়ালা নদীর অফিস খালের সাইট খাল নামক এলাকায় নিয়মিত টহলকালে এই আস্তানাটির সন্ধান মেলে।
বন বিভাগ সূত্র নিশ্চিত করেছে, বনরক্ষীদের উপস্থিতি টের পেয়ে দুর্বৃত্তরা গহীন বনে পালিয়ে গেলেও ওই আস্তানা থেকে ৫ কেজি চিংড়ি শুঁটকি, ২টি ডিঙি নৌকা, ৪টি বিষাক্ত কীটনাশকের বোতল এবং শুঁটকি তৈরির বিভিন্ন অবৈধ সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
টহল দলের প্রধান ও চরপুটিয়া ক্যাম্প ইনচার্জ মো. আসাদুজ্জামান জানান, সঙ্ঘবদ্ধ একটি চক্র অবৈধভাবে বনে প্রবেশ করে সুন্দরবনের খালে বিষ প্রয়োগের মাধ্যমে মাছ শিকার করছিল। একই সঙ্গে তারা আহরিত মাছ দিয়ে শুঁটকি বানানোর জন্য সেখানে একটি অস্থায়ী আস্তানা গড়ে তোলে। মালামাল উদ্ধারের পর ওই আস্তানাটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। পলাতক দুর্বৃত্তদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য বনে জোরদার তল্লাশি চলছে।
সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, "নিষেধাজ্ঞাকালীন বনে প্রবেশ করে অবৈধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে কেউ রেহাই পাবে না। নিষেধাজ্ঞা কঠোরভাবে কার্যকর করতে নিয়মিত টহলের পাশাপাশি শরণখোলা ও চাঁদপাই রেঞ্জে বাড়তি ৬টি স্মার্ট টিম গঠন করা হয়েছে।" বর্তমানে বনে পায়ে হেঁটে টহল, নদী ও খালে স্পিডবোট-জলযান এবং ড্রোনের মাধ্যমে সমগ্র সুন্দরবনকে সার্বক্ষণিক কড়া নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছে বলে জানান এই কর্মকর্তা।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









