বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে নবম শ্রেণীর ছাত্র আব্দুল্লাহ সাইম মুস্তাকিমকে (১৭) নৃশংসভাবে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় উত্তাল হয়ে উঠেছে এলাকা। হত্যাকাণ্ডের ১৯ দিন পেরিয়ে গেলেও প্রধান আসামিরা গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন স্থানীয়রা। খুনিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবিতে বিশাল বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে সর্বস্তরের জনগণ।
মঙ্গলবার (৯ জুন) সকালে উপজেলার মাদ্রাসা মোড়ের প্রধান সড়কে ‘সারিয়াকান্দির সর্বস্তরের জনসাধারণ’-এর ব্যানারে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে সারিয়াকান্দি থানার সামনে গিয়ে অবস্থান নেয়।
এতে স্থানীয় নওখিলা পিএন উচ্চ বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, নিহতের স্বজন ও শত শত এলাকাবাসী ব্যানার-ফেস্টুন হাতে অংশ নেন। পরে মিছিলটি পুনরায় প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে উপজেলা পরিষদ চত্বরে গিয়ে অবস্থান কর্মসূচিতে রূপ নেয়।
বিক্ষোভকারীদের ব্যানার ও স্লোগানে হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত শাহাদত, তার বাবা শাহা আলী ও সহযোগী লিজনসহ সকল আসামির ফাঁসি এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
অবস্থান সমাবেশে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বক্তারা বলেন, "নিহত আব্দুল্লাহ সাইম মুন্তাকিম অত্যন্ত শান্ত ও মেধাবী ছাত্র ছিল। সে বাবা-মা হারা একজন এতিম সন্তান। গত ২১ মে দুপুরে চন্দনবাইশা ইউনিয়নের নওখিলা পিএন উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে ফুটবল খেলা নিয়ে বিরোধের জেরে শাহাদত ও তার বাবা শাহা আলীসহ অন্য আসামিরা সাইমের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। একপর্যায়ে তাকে প্রকাশ্যে নৃশংসভাবে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। পরে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাইমের মৃত্যু হয়।"
বিক্ষুব্ধ সহপাঠী ও শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "আমাদের সহপাঠীকে প্রকাশ্য দিবালোকে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার এত দিন অতিবাহিত হলেও প্রধান আসামিরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। খুনিরা গ্রেপ্তার না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।"
সমাবেশে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং নওখিলা পিএন উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষকমণ্ডলী বক্তব্য রাখেন। বক্তারা অবিলম্বে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করে মামলাটির দ্রুত বিচার এবং অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ শাস্তি 'ফাঁসি' কার্যকর করার জন্য প্রশাসন ও সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান। অন্যথায় আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন এলাকাবাসী।
র্যালি ও মানববন্ধন শেষে শিক্ষার্থীরা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এবং থানা পুলিশের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন।
সারিয়াকান্দি থানার ওসি (তদন্ত) নুর আলম জানান, "ঘটনার পর থেকেই আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। অপরাধীদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুমাইয়া ফেরদৌস জানান, "সুষ্ঠু তদন্ত শেষে সঠিক বিচারের জন্য দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









