পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলায় সমুদ্রে মৎস্য আহরণে বিরত থাকা জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত বিশেষ ভিজিএফের চাল বিতরণ না করে লোপাটের অভিযোগ উঠেছে পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি নজরুল ইসলাম গাজীর বিরুদ্ধে।
বঙ্গোপসাগরে মাছের অবাধ প্রজনন নিশ্চিত করতে গত ১৫ এপ্রিল থেকে ১১ জুন পর্যন্ত ৫৮ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা চলছে। এই সময়ে জীবনযাত্রা নির্বাহের জন্য মানবিক সহায়তা হিসেবে বরাদ্দকৃত চাল নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পরও পাননি জেলেরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের ২৫টি সমুদ্রগামী জেলে পরিবারের জন্য পরিবার প্রতি ৭৭.৩৩০ কেজি হারে মোট ১.৯৩৩ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। গত ৭ মে ২০২৬ তারিখের মধ্যে ট্যাগ অফিসার, মৎস্য কর্মকর্তা ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার উপস্থিতিতে এই চাল বিতরণের স্পষ্ট বাধ্যবাধকতা ছিল। তবে সময়সীমা পার হলেও অধিকাংশ প্রকৃত জেলে চাল পাননি।
নিয়ম অনুযায়ী ট্যাগ অফিসারের উপস্থিতিতে চাল বিতরণের কথা থাকলেও দায়িত্বপ্রাপ্ত কেউই এই বিষয়ে কিছু জানেন না।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (মোঃ মাহফুজুর রহমান) বলেন চাল বিতরণ করা হয়েছে কিনা তা আমি জানি না। মাস্টার রোলও আমাদের কাছে এখনো জমা হয়নি। আমি চেয়ারম্যানের সাথে কথা বলে বিষয়টি জানাচ্ছি।
ট্যাগ অফিসার (মশিউর রহমান) বলেন পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের সামুদ্রিক জেলেদের চাল দেওয়া হয়েছে কিনা তা আমি জানি না। চেয়ারম্যান আমাকে কিছুই জানাননি এবং আমার উপস্থিতিতে কোনো চাল বিতরণ করা হয়নি।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী (পিআইও) জানান নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চাল বিতরণের নির্দেশ থাকলেও চাল আদৌ বিতরণ হয়েছে কিনা, সে বিষয়ে তার কাছে কোনো তথ্য নেই।
৩০ বছর ধরে সাগরে মাছ ধরা স্থানীয় লিটন মাঝি আক্ষেপ করে বলেন, আমি এত বছর ধইরা সাগরে মাছ ধরি, কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনোদিন সরকারি চাল পাই নাই। এই চাল যে চেয়ারম্যান কাদেরকে দেয়, তা আমরা সাধারণ জেলেরা জানিও না। আলগী গ্রামের সামুদ্রিক জেলে নাসির উদ্দিন বলেন এখনো চাল পায়নি কবে পাবো তাও জানিনা।
অভিযোগের বিষয়ে পাঙ্গাশিয়া ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম গাজী দাবি করেন, পাঁচ-ছয় জন জেলে তাদের চাল নিয়ে গেছে, অন্য জেলেরা এখনো নেয়নি। তবে সরকারি সময়সীমা পার হওয়ার পরও কেন সবাইকে চাল দেওয়া হলো না এবং কর্মকর্তাদের কেন অবহিত করা হয়নি—এ বিষয়ে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।
নিষেধাজ্ঞার এই সংকটাপন্ন সময়ে প্রকৃত জেলেরা যাতে দ্রুত তাদের ন্যায্য সরকারি চাল বুঝে পান, সেজন্য তারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি ও কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









