শরণখোলায় সন্ত্রাসীদের অতর্কিত হামলায় রায়েন্দা সরকারি পাইলট হাইস্কুলের সহকারী শিক্ষক হুমায়ুন কবির হাওলাদার (৫৪) আহত হয়েছেন। তাকে প্রথমে শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। হামলাকারীরা তার গলায় থাকা প্রায় এক ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন ওই শিক্ষক।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুরে শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে ঘটে এই হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় শিক্ষক মহলে ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সকালে উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরত্বে দক্ষিণ রাজাপুর গ্রামে শিক্ষক হুমায়ুন কবিরের বোন সেলিমা বেগমের বসতভিটার জমি নিয়ে প্রতিপক্ষের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এঘটনায় তার চাচাতো ভাই রুহুল আমিন হাওলাদার (৫৫) আহত হয়ে হাসপাতালে আসেন। খবর পেয়ে শিক্ষক হুমায়ুন কবির স্কুল থেকে দুপুরে চাচাতো ভাইয়ের চিকিৎসার খোঁজ খবর নিতে হাসপাতালে ঢোকার সময় ১০ থেকে ১৫ জন সন্ত্রাসী তার উপর অতর্কিত হামলা করে বলে তার অভিযোগ।
তারা শিক্ষকের মোটসাইকেলের গতিরোধ করে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মেরে গুরুতর আহত করে। এসময় আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে হাসাপাতালে ভর্তি করেন।
আহত শিক্ষক হুমায়ুন কবির বললেন, আমি উপজেলা সদরের রায়েন্দা সরকারি পাইলট হাই স্কুলের শিক্ষকতার সূত্রে স্কুলের কোয়ার্টারে বসবাস করি। গ্রামের ঘটনার সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। হাসপাতালে চাচাতো ভাইয়ের চিকিৎসার খোঁজ নিতে গেলে আমার ওপর আক্রমন করা হয়।
শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. অন্তরা জানান, শিক্ষকের শরীর জখম না হলেও বিভিন্ন স্থানে চাপা আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
রায়েন্দা সরকারি পাইলট হাই স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো.বদিউজ্জামান বাদল বলেন, শিক্ষকের ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনাটি প্রতিষ্ঠানের সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। তিনি বিষয়টি আইনগতভাবে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন। সঠিক বিচার না পেলে পরবর্তীতে আমাদের সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
এব্যাপারে জানতে চাইলে বিদ্যালয়টির সভাপতি ও শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অর্থিতা হাওলাদার বলেন, শিক্ষকের ওপর হামলার ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। বিষয়টি তদন্ত করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









