ঈদুল আজহার পর কুষ্টিয়ার খুচরা বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে কাঁচা সবজি, মাছ ও মুরগির দামে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে এর বিপরীতে গরু ও খাসির মাংসের দামে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। বাজারে সরবরাহ সংকট ও আমদানি কমে যাওয়ার অজুহাতে ব্যবসায়ীরা দাম বৃদ্ধির কথা বললেও সাধারণ ক্রেতারা এ ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন।
শুক্রবার (১২ জুন) সকালে কুষ্টিয়া পৌর বাজারে সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, কাঁচাবাজারে ক্রেতাদের ভিড় থাকলেও মাছ ও মাংসের বাজার তুলনামূলক ফাঁকা। বাজারের বিভিন্ন দোকানে টাঙানো মূল্যতালিকা এবং ব্যবসায়ী-ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে বেশ কয়েকটি পণ্যের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে।
বাজারে আলু কেজি প্রতি ২৫ টাকা থেকে বেড়ে ৩০ টাকা, পটল ২০ টাকা থেকে ৩০ টাকা, উচ্ছে ২৫ টাকা থেকে ৩০ টাকা এবং কাঁচা মরিচ ৩০ টাকা থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে বেগুনের দাম। এক সপ্তাহের ব্যবধানে বেগুনের কেজি ৪০ টাকা থেকে দ্বিগুণ হয়ে ৮০ টাকায় পৌঁছেছে।
ব্যবসায়ীদের দাবি, ঈদের পর বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সবজির সরবরাহ কমে যাওয়ায় বাজারে এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
কাঁচাবাজারের ব্যবসায়ী নজরুল আলী বলেন, “ঈদের পরে বাজারে সবজির সরবরাহ কমেছে। অনেক এলাকার উৎপাদনও কম। ফলে দাম কিছুটা বেড়েছে।”
অপরদিকে চালের বাজারেও বেড়েছে দাম। মিনিকেট চাল কেজিপ্রতি ৭০ টাকা থেকে ৭৬ টাকা, কাজল লতা ৬০ টাকা থেকে ৬৬ টাকা এবং মোটা চাল ৫০ টাকা থেকে ৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ভোজ্যতেলের মধ্যে সয়াবিন তেলের লিটার ২০০ টাকা থেকে বেড়ে ২০৫ টাকা এবং সরিষার তেল ১৯০ টাকা থেকে বেড়ে ২১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ঈদ-পরবর্তী সময়ে পশুর মাংসের বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। গরুর মাংস কেজিপ্রতি ৮০০ টাকা থেকে কমে ৭০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ২০০ টাকা থেকে কমে ১ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
তবে মুরগির বাজারে চিত্র ভিন্ন। ব্রয়লার মুরগি ১৫০ টাকা থেকে বেড়ে ১৮০ টাকা, সোনালি ২৯০ টাকা থেকে ৩১০ টাকা এবং লেয়ার মুরগি ৩৫০ টাকা থেকে ৩৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
অন্যদিকে মাছের বাজারে গিয়ে ক্রেতারা সবচেয়ে বেশি হতাশার কথা জানিয়েছেন। রুই মাছের কেজি ৩২০ টাকা থেকে বেড়ে ৩৬০ টাকা, কাতলা ৩০০ টাকা থেকে ৩৩০ টাকা এবং ছোট মাছ ৬০০ টাকা থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ইলিশের দাম কেজিপ্রতি প্রায় ১ হাজার ৬০০ টাকা।
মাছ কিনতে আসা চাকরিজীবী সাইফুল ইসলাম বলেন, “মাছের বাজারে এসে সত্যিই অবাক হয়েছি। দাম এত বেড়েছে যে মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য নিয়মিত মাছ কেনা কঠিন হয়ে পড়েছে। বাজার মনিটরিং আরও জোরদার করা প্রয়োজন।”
বাজারে কেনাকাটা করতে আসা মনিরুল ইসলাম বলেন, “প্রতিটি সপ্তাহেই কোনো না কোনো পণ্যের দাম বাড়ছে। ব্যবসায়ীরা আমদানির কথা বলছেন, কিন্তু সাধারণ মানুষ তো আয় বাড়ছে না। সংসার চালানো দিন দিন কঠিন হয়ে যাচ্ছে।”
ভোক্তাদের অভিযোগ, বাজারে কার্যকর তদারকি না থাকায় ব্যবসায়ীরা নানা অজুহাতে দাম বাড়ানোর সুযোগ পাচ্ছেন। তারা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর নিয়মিত নজরদারি ও বাজার ব্যবস্থাপনায় কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।
অর্থনীতিবিদদের মতে, সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন, পরিবহন ব্যয় এবং মৌসুমি প্রভাবের কারণে কিছু পণ্যের দাম বাড়লেও বাজারে অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি রোধে কার্যকর মনিটরিং জরুরি। অন্যথায় সাধারণ মানুষের ওপর মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়বে।
সার্বিকভাবে, কুষ্টিয়ার বাজারে ঈদ-পরবর্তী সময়ে গরু ও খাসির মাংসের দামে কিছুটা স্বস্তি এলেও সবজি, মাছ, মুরগি, চাল ও তেলের দামের ঊর্ধ্বগতি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়িয়ে তুলেছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









