সিলেটে চার বছরের শিশু ফাহিমাকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় প্রধান আসামি জাকির হোসেন ও তার দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (১২ জুন) দুপুরে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. মনজরুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে বৃহস্পতিবার (১১ জুন) চাঞ্চল্যকর এই মামলার চার্জশিট দাখিল করে পুলিশ।
চার্জশিটে ফাহিমার প্রতিবেশী ও সম্পর্কে চাচা, তিন ভাইকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তারা হলেন, জাকির হোসেন, তার ভাই জয়নাল আহমদ এবং আবুল কালাম। চার্জশিটে জাকিরের বিরুদ্ধে সরাসরি ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। আর দুই ভাই লাশ গুমে সহযোগিতার অভিযোগে অভিযুক্ত।
পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ৬ মে সকালে শিশু ফাহিমাকে একটি দোকান থেকে সিগারেট এনে দেওয়ার জন্য পাঠায় প্রতিবেশী চাচা জাকির হোসেন। শিশুটি সিগারেট নিয়ে ফিরলে জাকির তাকে নিজের ঘরে ডেকে নেয়। ওই সময় তার স্ত্রী বাড়িতে ছিলেন না।
জিজ্ঞাসাবাদে জাকির জানায়, ঘরের দরজা বন্ধ করে সে শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। একপর্যায়ে ফাহিমা অজ্ঞান হয়ে গেলে তাকে গলা টিপে হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ডের পর ফাহিমার মরদেহ প্রথমে ঘরের ভেতরের একটি ব্রিফকেসে লুকিয়ে রাখা হয়। পরবর্তীতে মরদেহ থেকে দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করলে গভীর রাতে জাকির ও তার ভাইয়েরা মিলে পাশের একটি ডোবায় ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করে।
গত ৮ মে বাড়ির পাশের ডোবা থেকে ফাহিমার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর ১১ মে রাতে প্রধান আসামি জাকির হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর জাকির আদালতে ১৬৪ ধারায় হত্যাকাণ্ডের লোমহর্ষক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।
নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সিলেটসহ দেশজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ফাহিমার হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে স্থানীয়রা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছেন।
সম্প্রতি ফাহিমার পরিবারের সাথে দেখা করে গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তারা উভয়ই ফাহিমা হত্যার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার বিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবারকে আশ্বস্ত করেছেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









