পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার শিবপুরে দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুরুচিপূর্ণ ও অসত্য মন্তব্যের প্রতিবাদে আয়োজিত মানববন্ধনে গুলিবর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ইকরাম মোল্লা (৪২) নামে এক ব্যক্তি ডান পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে গুলির খোসা উদ্ধার করেছে পুলিশ।
রবিবার (৯ আগস্ট) সকালে উপজেলার শিবপুর এলাকায় ত্বাহা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার প্রধান ফটকের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র ও মানববন্ধনের আয়োজকদের ভাষ্য অনুসারে, ৩ আগস্ট প্রকাশিত একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে মাদ্রাসার দুই শিক্ষক মো. শামছুল আলম (মঞ্জু মাস্টার) ও মোছা. আফরোজা ম্যাডামকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েকজন ব্যক্তি কুরুচিপূর্ণ, অশালীন ও অসত্য মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এর প্রতিবাদে এলাকাবাসীর উদ্যোগে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।
মানববন্ধন চলাকালে ১০ থেকে ১২ জনের একটি দল ঘটনাস্থলে এসে ব্যানার টেনে ছিঁড়ে ফেলার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ করেন আয়োজকরা। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি ও বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে পরপর দুই রাউন্ড গুলির শব্দ শোনা যায়। এর মধ্যে একটি গুলি ফাঁকা এবং অপর গুলিতে ইকরাম মোল্লার ডান পায়ে আঘাত লাগে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
গুলিবিদ্ধ হয়ে ইকরাম মোল্লা মাটিতে লুটিয়ে পড়লে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য পাবনা সদর হাসপাতালে পাঠান। তার অবস্থা গুরুতর বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেওয়া কয়েকজন অভিযোগ করেন, একদন্ত ইউনিয়নের গুরুবাসী গ্রামের ওয়াহেদ আলী বিশ্বাসের ছেলে টিপু বিশ্বাসের নেতৃত্বে ৮ থেকে ১০ জনের একটি দল সেখানে এসে মানববন্ধনে বাধা দেয়। পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে ইকরাম মোল্লাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয় বলে তারা দাবি করেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেওয়া আমিরুল ইসলাম বলেন, তারা শান্তিপূর্ণভাবে মানববন্ধন করছিলেন। এ সময় একটি দল এসে ব্যানার ছিঁড়ে ফেলে এবং মানববন্ধন করতে নিষেধ করে। একপর্যায়ে টিপু বিশ্বাস কোমর থেকে পিস্তল বের করে প্রথমে ফাঁকা গুলি এবং পরে ইকরাম মোল্লাকে লক্ষ্য করে গুলি করেন বলে তিনি দাবি করেন।
পরে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে মানববন্ধন পুনরায় অনুষ্ঠিত হয়। এতে আব্দুল হোসেন, আমিরুল ইসলাম, সামাদ মোল্লা ও বকুল হোসেন বক্তব্য দেন। বক্তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
এদিকে, মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক শামসুল আলম মঞ্জু বলেন, একটি কুচক্রী মহল তাকে বিতাড়িত করার উদ্দেশ্যে নানা ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছে। তিনি কোনো অনৈতিক সম্পর্কের সঙ্গে জড়িত নন দাবি করে বলেন, তাকে ষড়যন্ত্র করে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
গুলিবর্ষণের অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত টিপু বিশ্বাস ও তার সহযোগীদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনার খবর পেয়ে আটঘরিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং সেখান থেকে গুলির খোসা উদ্ধার করে। আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে পাঠানোর পাশাপাশি এলাকায় উত্তেজনা থাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
আটঘরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক বলেন, মানববন্ধনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির একপর্যায়ে গুলি ছোড়ার ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে গুলির খোসা উদ্ধার করেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ওসি আরো বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









