দাপ্তরিক ব্যস্ততার ফাঁকেও তিনি ছুটে যান উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। প্রধান শিক্ষকের অনুমতি নিয়ে প্রবেশ করেন শ্রেণিকক্ষে, আর একজন পেশাদার শিক্ষকের মতো শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মিশে শুরু করেন পাঠদান। গল্প, উদাহরণ ও সহজ উপস্থাপনার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কাছে পাঠকে করে তোলেন আনন্দদায়ক। শিক্ষার মানোন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাওয়া এই মানুষটি সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চল মধ্যনগর উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সঞ্জয় ঘোষ।
সোমবার (১৫ জুন) সকালে তিনি উপজেলার চামরদানী উচ্চ বিদ্যালয় পরিদর্শনে যান। এ সময় তিনি নবম ও দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের একটি ইংরেজি ক্লাস নেন।
হঠাৎ করে একজন ইউএনওকে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক হিসেবে পেয়ে শিক্ষার্থীরা বিস্মিত ও আনন্দিত হয়ে ওঠে। প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী পাঠদানে তিনি ইংরেজি বিষয়ের বিভিন্ন বিষয় সহজভাবে তুলে ধরেন এবং শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণমূলক শিক্ষায় উৎসাহিত করেন।
শিক্ষার্থীরা জানায়, ইউএনও স্যার অত্যন্ত সুন্দরভাবে ইংরেজি ক্লাস নিয়েছেন। তিনি বিভিন্ন প্রশ্নের মাধ্যমে আমাদের পাঠ বুঝিয়েছেন এবং কীভাবে সহজে পড়া মনে রাখা যায় সে বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন। তার ক্লাস ছিল খুবই উপভোগ্য ও শিক্ষণীয়।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম জিলানী বলেন, “একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা হয়েও যেভাবে তিনি শ্রেণিকক্ষে এসে পাঠদান করেছেন, তা শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন মনে রাখবে। তার এই উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার প্রতি আরও আগ্রহী করে তুলবে।”
পাঠদান প্রসঙ্গে ইউএনও সঞ্জয় ঘোষ বলেন, “কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পড়াতে আমি ভীষণ আনন্দ পাই। জ্ঞান বিতরণের মতো তৃপ্তি আর কিছুতে নেই। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সময় কাটানোর পাশাপাশি বিদ্যালয়ের বিভিন্ন সমস্যা ও প্রয়োজনীয়তাও সরেজমিনে জানার সুযোগ হয়। উন্নত ও সমৃদ্ধ জাতি গঠনে শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম। প্রজাতন্ত্রের একজন কর্মচারী ও নাগরিক হিসেবে শিক্ষা খাতের উন্নয়নে সামান্য ভূমিকা রাখতে পারাও আমার জন্য গর্বের বিষয়।”


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









