বরিশালের উজিরপুর উপজেলার বড়াকোঠা ইউনিয়নের শত বছরের নরসিংহা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ দখলের অভিযোগে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে বিদ্যালয় সংলগ্ন মামুন মার্কেটের সামনে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।
এ সময় বক্তারা বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ দখলের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে দ্রুত দখলমুক্ত করার দাবি জানান।
সমাবেশে বক্তব্য দেন গাজীরপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক মো. শাজাহান, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব মো. কাইয়ুম খান, ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান খান মহব্বত, ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. রফিকুল ইসলাম শামিম, বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শিরাজুল ইসলাম, সমাজসেবক আব্দুর রহিম বেপারী, আব্দুল হক খান, সংরক্ষিত মহিলা সদস্য সাবিনা ইয়াসমিন, বড়াকোঠা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব রিয়াজ বেপারী, কালাম বয়াতী, রাজন খান, ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. ইমরান বেপারী এবং যুবদল নেতা মাহাবুবুর রহমান কচি প্রমুখ।
বক্তারা অভিযোগ করেন, বিদ্যালয়টির শত বছরের পুরোনো খেলার মাঠ সম্প্রতি একটি পক্ষ জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা চালিয়েছে। এতে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা ও স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তারা দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ কামনা করেন এবং মাঠটি স্থায়ীভাবে দখলমুক্ত করার দাবি জানান।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, বিদ্যালয়ের মাঠ শুধু শিক্ষার্থীদের খেলার স্থান নয়, এটি এলাকার ঐতিহ্যের অংশ। মাঠ রক্ষায় প্রয়োজন হলে আরও কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৭ জুন সকালে নরসিংহা গ্রামের জাহিদুর রহমান মাছুম, কামরুল ইসলাম বাচ্চু, আসাদুল হক ফকির, শিরাজুল ইসলাম ফকির ও রুহুল আমিন ফকিরসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
এদিকে মানববন্ধন শেষে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী দখলকৃত অংশে গিয়ে মাঠটি পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেয় বলে জানা গেছে।
ঘটনার বিষয়ে উজিরপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পর্যালোচনা করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উজিরপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রকিবুল ইসলাম বলেন, ‘‘বিদ্যালয়ের জমি সংক্রান্ত বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবহিত করা প্রয়োজন। তবে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সার্বক্ষণিক নজরদারি করছে।’’
উজিরপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মহেশ্বর মণ্ডল জানান, জমি সংক্রান্ত বিরোধের বিষয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে আদালতের আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









