ঢাকার ধামরাই উপজেলার কুল্লা ইউনিয়নের বড় চন্দ্রাইল ও কেলিয়া গ্রামে অনুমোদনহীন ক্ষতিকর কেমিক্যাল ব্যবহার করে মশার কয়েল উৎপাদনের অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই পরিচালিত এসব কারখানার কারণে স্থানীয় জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ হুমকির মুখে পড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।
সরেজমিনে দেখা যায়, বড় চন্দ্রাইল গ্রামে মিরপুর থেকে এসে পান্না মিয়া নামে এক ব্যক্তি ভাড়া বাসায় “নিম পাতা” ও “এক্সট্রা পাওয়ার” নামে মশার কয়েল উৎপাদন করছেন। অন্যদিকে কেলিয়া উত্তরপাড়া এলাকায় নিপু নামে আরেক ব্যক্তি কয়েকটি ব্র্যান্ডের মশার কয়েল তৈরি করছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কারখানা দুটির কোনোটি বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)-এর অনুমোদনপ্রাপ্ত নয়।
সংশ্লিষ্টদের মতে, মশার কয়েল উৎপাদনে নির্ধারিত মান ও নিরাপত্তা নির্দেশিকা অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক। তবে অধিক কার্যকারিতার নামে এসব কারখানায় উচ্চমাত্রার ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে, যা মানবস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, কারখানাগুলোতে ব্যবহৃত বিষাক্ত রাসায়নিকের কারণে এলাকায় শ্বাসকষ্ট, কিডনি ও লিভারজনিত বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বাড়ছে। বিশেষ করে শিশুদের স্বাস্থ্যের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন। এছাড়া দিনের বেলায় গোপনে উৎপাদন কার্যক্রম চালিয়ে রাতে বিভিন্ন এলাকায় এসব কয়েল সরবরাহ করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা খোরশেদ আলম বলেন, “যে কয়েলে মশা মারা যায়, সেটি মানুষের জন্যও ক্ষতিকর হতে পারে। বিশেষ করে শিশুদের জন্য এটি বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি। তাই এসব অবৈধ কারখানার বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।”
অভিযোগের বিষয়ে কারখানা মালিক পান্না মিয়া সাংবাদিকদের বলেন, “আমাদের ব্যবসার প্রয়োজনীয় অনুমোদন নেই তাতে কি, আমরা সরকার দলীয় লোক, আমরা কার্যক্রম চালিয়ে যাবো, প্রশাসন পারলে কারখানা বন্ধ করুক।”
এদিকে, অনুমোদনহীন ও স্বাস্থ্য ঝুঁকিপূর্ণ পণ্য উৎপাদন এবং বাজারজাতকরণ বন্ধে সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও উপজেলা প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত তদন্ত করে অবৈধ কারখানাগুলোর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হোক।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল-মামুন বলেন, ‘‘অবৈধ মশার কয়েল কারখানা চালানোর কোনো সুযোগ নাই, তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









