সিসিলির উপকূলে আবিষ্কৃত প্রাচীন রোমান জাহাজের ধ্বংসাবশেষে মিলেছে শত শত অ্যাম্ফোরা। প্রত্নতাত্ত্বিকদের আশা, এই জাহাজ প্রাচীন ভূমধ্যসাগরীয় বাণিজ্যপথের অজানা ইতিহাস সামনে আনতে পারে।
ইতালির সিসিলি দ্বীপের কাছে সমুদ্রের গভীরে পাওয়া গেছে প্রায় ২ হাজার বছরের পুরোনো একটি রোমান জাহাজের ধ্বংসাবশেষ। জাহাজটিতে বিপুলসংখ্যক অ্যাম্ফোরা বা মদ সংরক্ষণ ও পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত বিশেষ মাটির পাত্র পাওয়া গেছে। ইতালির সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় গত ৮ আগস্ট আবিষ্কারের বিষয়টি জানায়।
জাহাজটির ধ্বংসাবশেষ সিসিলির পশ্চিম উপকূলে মাজারা দেল ভায়ালো শহর থেকে প্রায় তিন মাইল দূরে, ৪৬ মিটার গভীরে রয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, জাহাজটির দৈর্ঘ্য প্রায় ২১ মিটার এবং প্রস্থ ৬ মিটার।
ধারণা করা হচ্ছে, জাহাজটি খ্রিস্টপূর্ব দ্বিতীয় থেকে প্রথম শতকের কোনো এক সময়ে ডুবে যায়। সেখানে পাওয়া অধিকাংশ পাত্রই ‘ড্রেসেল ১এ’ ধরনের অ্যাম্ফোরা। দুই হাতলযুক্ত এসব মাটির পাত্রে প্রায় ২০ লিটার পর্যন্ত তরল রাখা যেত। সমুদ্রতলের ছবি ও ভিডিওতে পাত্রগুলোকে স্তূপের মতো অবস্থায় দেখা গেছে।
দুই ইতালীয় ডুবুরি—জিয়াকোমো দে মোলা ও ইগর বিসুল্লি—এই গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার করেন। তাঁদের স্ক্যানিং যন্ত্রে জায়গাটি প্রথমে সাধারণ পাথুরে এলাকা বলে মনে হয়েছিল। কিন্তু কিছু একটা দেখে দে মোলা সেখানে ডুব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। পানির নিচে গিয়ে তিনি বুঝতে পারেন, এটি আসলে প্রাচীন একটি জাহাজের ধ্বংসাবশেষ। পরে তাঁরা বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানান।
সামুদ্রিক প্রত্নতত্ত্ববিদ ও লেখক ডেভিড গিবিনস এই আবিষ্কারকে ‘অসাধারণ’ বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, জাহাজটি পুরোপুরি তুলে আনার বদলে অধিকাংশ অংশ সমুদ্রের তলদেশেই সংরক্ষণ করা হতে পারে। প্রয়োজন অনুযায়ী সীমিত খনন করে জাহাজের কাঠামো ও পণ্য সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হতে পারে।
গিবিনসের মতে, অ্যাম্ফোরাগুলোতে থাকা মদের অবশিষ্টাংশ এবং পাত্রে থাকা প্রাচীন চিহ্ন বা লেখাগুলো জাহাজটির উৎস সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে পারে।
আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ধ্বংসাবশেষটির অবস্থান। প্রাচীন রোমের প্রধান মদ-বাণিজ্যপথের কিছুটা বাইরে এই এলাকা হওয়ায় প্রশ্ন উঠছে—জাহাজটি আসলে কোথায় যাচ্ছিল? উত্তর আফ্রিকা কিংবা স্পেনের দিকে পণ্য নিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রত্নতাত্ত্বিকদের আশা, এই জাহাজ শুধু একটি প্রাচীন দুর্ঘটনার গল্প নয়; বরং রোমান প্রজাতন্ত্র থেকে সাম্রাজ্যে রূপান্তরের সময়কার বাণিজ্য, অর্থনীতি ও ভূমধ্যসাগরীয় যোগাযোগের নতুন ইতিহাসও তুলে ধরতে পারে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









