চাঁদা না দেওয়ায় দোকানকোটা নির্মাণে বাধা ও মালিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষককে প্রকাশ্যে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে বাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি রতি মিয়ার বিরুদ্ধে।
শনিবার( ২০ জুন) সকালে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার আনোয়ারপুর বাজারের এই ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত ব্যক্তি হলেন, আনোয়ারপুর বাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি উপজেলার দক্ষিণকুল গ্রামের বাসিন্দা বিএনপি নেতা রতি মিয়া। লাঞ্ছনার শিকার শিক্ষকের নাম মুক্তার হোসেন, তিনি আনোয়ারপুর বাজার এলাকার বাসিন্দা ও এলাকার পাতারী তিওর জালাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে তাকে ডেকে নিয়ে লাঞ্ছিত করেন রতি মিয়া।
শিক্ষক মুক্তার হোসেন অভিযোগ করে জানান, আনোয়ারপুর বাজারে তার ক্রয় করা একটি ভিটা রয়েছে। আওয়ামী লীগের আমলে উপজেলা প্রশাসন তার ভিটার দোকানসহ আরও কিছু দোকান ভেঙে দিয়েছিল। সম্প্রতি অন্যান্য দোকান মালিকরা পুনরায় দোকানকোটা নির্মাণ করছেন দেখে তিনিও দোকান নির্মাণের উদ্যোগ নেন। কিন্তু বার বার বাধা ও চাঁদা দাবি করছেন বাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি রতি মিয়া।
শনিবার সকালে তিনি বিদ্যালয়ে যাওয়ার জন্য বাজারে রাস্তায় অটোরিকশার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় রতি মিয়া তাকে ডেকে নিয়ে দোকান নির্মাণের বিষয়ে জানতে চান। তখন মুক্তার হোসেন বলেন, ‘‘দোকান নির্মাণের প্রস্তুতি নিয়েছেন।’’
এরপর রতি মিয়া তাকে দোকান নির্মাণে নিষেধ করেন ও হাতে থাকা ছাতা দিয়ে মারপিট শুরু করেন। বাজারে থাকা লোকজন মুক্তার হোসেনকে রক্ষা করেন।
শিক্ষক মুক্তার হোসেন বলেন, ‘‘আমার ক্রয় করা ভিটা, আওয়ামী লীগের আমলে উপজেলা প্রশাসন দোকান ভেঙে দিয়েছিল। এখন অন্যরা ঘর নির্মাণ করা শুরু করলে আমিও উদ্যোগ নেই। কিন্তু বাজার কমিটির সভাপতি দাবিদার রতি মিয়া আমাকে বারবার নিষেধ দিচ্ছে ও চাঁদা দাবি করছে। তাকে চাঁদা না দেওয়ায় আজ সকালে ডেকে নিয়ে ছাতা দিয়ে আমাকে মারধর শুরু করে। বিষয়টি আমি এমপি মহোদয় ও উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে অকগত করেছি। এমপি মহোদয় পুলিশকে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। আমি থানায় অভিযোগ করব।’’
তবে অভিযোগ মিথ্যা দাবি করে রতি মিয়া বলেন, ‘‘আমি বিএনপির একজন কর্মী, আমার কোনো পদ নেই। ২ বছর আগে এসিল্যান্ড মুক্তার হোসেন দোকান ভেঙে দিয়েছিল। এখন আবার দোকান করার জন্য আমার কাছে পারমিশন চায়, এনিয়ে কথা-বার্তা হয়েছে। তাকে আমি মারপিট করিনি ও কোনো চাঁদা চাইনি। শুনেছি শিক্ষক এমপির সাবের কাছে গিয়েছিল।’’
তাহিরপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সুলেমান মিয়া বলেন, ‘‘মুক্তার হোসেন নামের একজন সহকারী শিক্ষককে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তিনি আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করলে আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সুপারিশ করব।’’
এ বিষয়ে কথা বলতে তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলামকে ফোন করলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। স্থানীয় সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুলের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
বালিজুরী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘‘রতি মিয়ার বিএনপির কোনো পদ নেই। তার বিরুদ্ধে একজন শিক্ষককে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে, আমরা এই ঘটনার নিন্দা জানাই। ভিকটিম শিক্ষক আমাদের সামনে এমপি মহোদয়ের কাছে রতি মিয়ার বিরুদ্ধে ২ লাখ চাঁদা দাবি ও লাঞ্ছিত করার নালিশ করেছেন। এ সময় থানার ওসি সাহেব উপস্থিত ছিলেন। এমপি মহোদয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ওসি সাহেবকে নির্দেশ দিয়েছেন।’’


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









