রংপুরের গংগাচড়া উপজেলা পরিষদ চত্বরে জনসাধারণের স্যানিটেশন সুবিধা নিশ্চিত করতে প্রায় ৯ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি গণশৌচাগার কয়েক বছর ধরে তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ফলে সরকারি সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষকে পড়তে হচ্ছে চরম ভোগান্তিতে।
জানা যায়, ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে অগ্রাধিকার গ্রামীণ পানি সরবরাহ প্রকল্পের আওতায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে গণশৌচাগারটি নির্মাণ করে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। উদ্দেশ্য ছিল উপজেলা পরিষদে আসা সাধারণ মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। তবে নির্মাণের পর থেকেই এটি বন্ধ থাকায় সেই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সবাই।
সরেজমিনে দেখা গেছে, গণশৌচাগারের মূল ফটকে ঝুলছে তালা। দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় ভবনের চারপাশে আগাছা জন্মেছে। অযত্ন ও অবহেলায় পড়ে থাকা স্থাপনাটি এখন নিজেই ব্যবহারের অনুপযোগী হওয়ার পথে।
প্রতিদিন উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে শত শত মানুষ সরকারি সেবা নিতে উপজেলা পরিষদে আসেন। কাজ শেষে অনেককেই দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। এ সময় শৌচাগারের প্রয়োজন হলে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েন নারী, শিশু, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধীরা।
নোহালী ইউনিয়ন থেকে আসা জামিয়ার রহমান বলেন, "উপজেলা পরিষদে প্রতিদিন অনেক মানুষ আসে। কিন্তু প্রয়োজনের সময় ব্যবহার করার মতো কোনো গণশৌচাগার খোলা পাওয়া যায় না। জনগণের সুবিধার জন্য নির্মিত একটি স্থাপনা এভাবে পড়ে থাকা দুঃখজনক।" একই ক্ষোভ প্রকাশ করে কোলকোন্দ ইউনিয়নের নওশা মিয়া বলেন, বিভিন্ন কাজে এসে এখানে কয়েক ঘণ্টা থাকতে হয়। শৌচাগারটি বন্ধ থাকায় বিশেষ করে নারী ও বয়স্কদের বেশি কষ্ট হয়। এটি দ্রুত চালু করা দরকার।
স্থানীয়দের অভিযোগ, জনগণের অর্থে নির্মিত একটি জনসেবামূলক স্থাপনা বছরের পর বছর বন্ধ থাকা প্রকল্প বাস্তবায়নের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
এ বিষয়ে উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী জানযাবিল বিনতে আহম্মেদ বলেন, "গণশৌচাগারটি আগে ইজারা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ইজারাগ্রহীতা সেটি পরিচালনা করে ব্যয় নির্বাহ করতে না পারায় কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। বিষয়টি নিয়ে নতুন করে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। কীভাবে এটি পুনরায় চালু করা যায়, সে বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
গংগাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেসমিন আক্তার বলেন, "বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। উপজেলা পরিষদ চত্বরে নির্মিত গণশৌচাগারটি জনসাধারণের ব্যবহারের জন্যই করা হয়েছে। এটি বন্ধ থাকার বিষয়টি খতিয়ে দেখতে উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।"
দ্রুত গণশৌচাগারটি চালু করে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর পদক্ষেপ নেবে—এমনটাই প্রত্যাশা করছেন স্থানীয় ভুক্তভোগীরা।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









