ঢাকার ধামরাইয়ের ঢুলিভিটা এলাকায় সরকারি সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত করতে পরিচালিত সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের উচ্ছেদ অভিযানে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে উচ্ছেদ কাজে ব্যবহৃত এক্সকাভেটরের চালক ও তার সহকারী আহত হয়েছেন। হামলার পর নিরাপত্তাজনিত কারণে অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) দুপুরে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের ঢুলিভিটা বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় ফুটপাত ও সড়কের জায়গা দখল করে গড়ে ওঠা কয়েকশ অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদে অভিযান চালানো হয়।
সওজ সূত্রে জানা যায়, সরকারি সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছিল। প্রায় এক ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে কয়েকটি অবৈধ স্থাপনা অপসারণের পর একদল দোকান মালিক উচ্ছেদ কাজে নিয়োজিত এক্সকাভেটর ও এর চালকের ওপর হামলা চালায়। এতে চালক ও তার সহকারী আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং নিরাপত্তার স্বার্থে অভিযান সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়। একই সঙ্গে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা দোকানপাট অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার জন্য সময় দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দোকান সরিয়ে না নিলে পুনরায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে জানিয়েছে সওজ কর্তৃপক্ষ।
অন্যদিকে স্থানীয় হকারদের অভিযোগ, কোনো ধরনের পূর্ব নোটিশ ছাড়াই হঠাৎ করে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
সওজের নয়ারহাট শাখার উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী নূরে আলম সিদ্দিক বলেন, “সড়ক বিভাগের নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আমরা সময়ে সময়ে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করি। সরকারি জায়গা দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনার কারণে যানজট সৃষ্টি হয়, পথচারীদের চলাচল ব্যাহত হয় এবং জনদুর্ভোগ বাড়ে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সহযোগিতায় অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছিল। কিন্তু একপর্যায়ে স্থানীয় কয়েকজন দোকানদার আমাদের কর্মীদের ওপর হামলা চালান। এতে এক্সকাভেটরের চালক গুরুতর আহত হন। তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ধামরাই উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রিদওয়ান আহমেদ রাফি বলেন, “ঢুলিভিটা এলাকায় প্রায় দেড় ঘণ্টা শান্তিপূর্ণভাবে উচ্ছেদ কার্যক্রম চলছিল। হঠাৎ কিছু দুষ্কৃতকারী হামলা চালিয়ে খননযন্ত্রের চালককে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে আহত করে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে। প্রয়োজনে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হবে।”
তিনি আরও বলেন, “সড়ক বিভাগের উচ্ছেদ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। ধামরাইয়ের বিভিন্ন এলাকায় সরকারি জমি দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনাগুলোর বিরুদ্ধেও পর্যায়ক্রমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









