সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ইসলাম ও মহানবী (সা.)-কে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করার অভিযোগে এক যুবককে গণপিটুনি দিয়েছে উত্তেজিত জনতা। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হেফাজতে নিয়েছে। তবে এ ঘটনার জের ধরে অভিযুক্তের বাড়িতে ও স্থানীয় একটি মন্দিরে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
অভিযুক্ত যুবকের নাম প্রিন্স রায় দীপ্ত (২৩)। তিনি উপজেলার উত্তর বাদাঘাট ইউনিয়নের গরকাটি গ্রামের নিখিল রায়ের ছেলে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রিন্স রায় দীপ্ত তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে ইসলাম ও মহানবী (সা.)-কে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করে একটি পোস্ট দেন। বিষয়টি স্থানীয় মুসলিম তাওহীদি জনতার নজরে আসলে এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিকেলে দীপ্ত বাদাঘাট বাজারে এলে উত্তেজিত জনতা তাঁর ওপর চড়াও হয়। এ সময় তিনি প্রাণভয়ে স্থানীয় এক পেট্রোল ব্যবসায়ীর দোকানে আশ্রয় নেন।
খবর পেয়ে বাদাঘাট পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্তকে আইনি আওতায় আনার আশ্বাস দিয়ে নিজেদের হেফাজতে নেন। তবে অভিযুক্তকে তাৎক্ষণিক শাস্তির দাবিতে বাদাঘাট বাজারে কয়েক হাজার জনতা বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি বাদাঘাট পুলিশ ফাঁড়ির সামনে গিয়ে অবস্থান নেয়।
এদিকে, বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে একদল উত্তেজিত লোক দীপ্ত রায়ের গ্রামে গিয়ে তাঁর বসতবাড়ি ও দোকানপাটে হামলা চালায়। এ সময় স্থানীয় একটি মন্দিরেও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুর ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সহযোগিতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
তাহিরপুর থানার ওসি আমিনুর ইসলাম জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে অভিযুক্ত যুবকের বাড়িতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। একই সাথে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে স্থানীয় এলাকাবাসীর সমন্বয়ে ২০ সদস্যের একটি সম্প্রীতি কমিটি গঠন করা হয়েছে। ফেসবুকে কটূক্তির বিষয়ে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









