কক্সবাজারের রামু উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়নে নিজ শয়নকক্ষ থেকে ছৈয়দ হোছন (৪৫) নামে এক ব্যক্তির রক্তাক্ত ও রহস্যজনক মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। স্বজনদের দাবি, পরকীয়া সম্পর্কের জেরে পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের স্ত্রী আনোয়ারা বেগমকে আটক করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) ভোরে উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়নের থোয়াইঙ্গাঢেবা কালারপাড়া গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত ছৈয়দ হোছন ওই এলাকার মৃত মোজাফফরের ছেলে এবং তিন সন্তানের জনক। নিহতের ছোট ভাই এনামুল হক অভিযোগ করেন, গত দুই থেকে তিন বছর ধরে তার ভাবি আনোয়ারা বেগমের সঙ্গে স্থানীয় আকতার মিয়ার পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে দাম্পত্য কলহ চলছিল।
তিনি জানান, বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে নিজ ঘরে ঘুমাতে যান ছৈয়দ হোছন। পরদিন ভোরে স্থানীয়দের মাধ্যমে তার মৃত্যুর খবর জানতে পারেন স্বজনরা।
এনামুল হক জানান , মরদেহে নির্যাতনের স্পষ্ট আলামত রয়েছে। চোখ, কান ও নাক দিয়ে রক্ত বের হচ্ছিল এবং গলায় নখের আঁচড়ের চিহ্ন দেখা গেছে। তার দাবি, পরকীয়া প্রেমিকের সহযোগিতায় আনোয়ারা বেগম পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান তিনি।
পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভুঁইয়া বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শয়নকক্ষ থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় মরদেহ উদ্ধার করে। নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
তিনি আরও জানান, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। তবে ঘটনার রহস্য উদঘাটনে তদন্ত চলছে এবং প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের স্ত্রীকে আটক করা হয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









