বরগুনার বেতাগী উপজেলায় এক শিশু শিক্ষার্থীকে জোরপূর্বক বলাৎকারের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় এক মাদ্রাসা শিক্ষকের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (২৯ জুন) অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষক হাফেজ মুহাসিন হাসান ওরফে আব্দুর রহিম স্বেচ্ছায় বরগুনার বেতাগী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। আদালত মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা শেষে জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
মামলার এজাহার ও ভিকটিমের জবানবন্দি সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ এপ্রিল ২০২৬ সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বেতাগী উপজেলার ৪ নম্বর মোকামিয়া ইউনিয়নের একটি নূরানী মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত শিক্ষক মুহাসিন হাসান ওরফে আব্দুর রহিমের বিরুদ্ধে এক শিশু শিক্ষার্থীকে জোরপূর্বক বলাৎকারের অভিযোগ আনা হয়েছে।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ঘটনার পর ভিকটিম বিষয়টি মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষককে জানায়। পরে প্রধান শিক্ষক মাদ্রাসার পরিচালককে অবহিত করে শিশুটিকে তার বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। পরবর্তীতে ভিকটিমের পিতা বিষয়টি মাদ্রাসার পরিচালক ও সেক্রেটারিকে জানালে তারা ঘটনাটি গোপন রাখার অনুরোধ করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
কোনো প্রতিকার না পেয়ে ভিকটিমের পিতা বেতাগী থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় বামনা উপজেলার বাসিন্দা মুহাসিন হাসান ওরফে আব্দুর রহিমকে প্রধান আসামি করা হয়।
ভিকটিম তার জবানবন্দিতে দাবি করেছে, অভিযুক্ত এর আগেও একই মাদ্রাসার আরও কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে একই ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছেন। তবে লোকলজ্জা ও ভয়ের কারণে তারা বিষয়টি প্রকাশ করেননি। এছাড়া মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত অতীতেও ভিন্ন ভিন্ন নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন মাদ্রাসায় একই ধরনের অপরাধে জড়িত ছিলেন।
আদালতে আত্মসমর্পণের পর আসামিপক্ষের আইনজীবী জামিন আবেদন করে দাবি করেন, ষড়যন্ত্রমূলকভাবে তাকে এ মামলায় জড়ানো হয়েছে।
তবে মামলার এজাহার, ভিকটিমের জবানবন্দি, আসামিপক্ষের জামিন আবেদন এবং মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা শেষে বেতাগীর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. আনোয়ার হোসেন জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে অভিযুক্তকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









