ঝিনাইদহের শৈলকুপায় সামাজিক আধিপত্য বিস্তার নিয়ে কোন্দলের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় আহত ভ্যানচালক একেন আলী মোল্লা (৬০) মারা গেছেন।
সোমবার (৩০ জুন) রাতে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর থেকে ঢাকা নেওয়ার পথে মধ্যরাতে তার মৃত্যু হয়। নিহত একেন আলী মোল্লা উপজেলার বগুড়া ইউনিয়নের বগুড়া গ্রামের আদালত মোল্লার ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শৈলকুপার বগুড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুর আওয়াল এবং সাধারণ সম্পাদক জামির হোসেনের সমর্থকদের মধ্যে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। গত বৃহস্পতিবার সাধারণ সম্পাদক জামির হোসেনের সমর্থক এনা শেখকে ইয়াবাসহ আটক করে পুলিশ। জামিরের পক্ষের লোকজনের ধারণা ছিল, সভাপতি আব্দুর আওয়ালের সমর্থক মতিয়ার রহমানই পুলিশকে তথ্য দিয়ে এনাকে ধরিয়ে দিয়েছেন। এ ঘটনার জের ধরে ওইদিনই জামিরের লোকজন মতিয়ারের ওপর হামলা চালায়। পরবর্তীতে আওয়ালের সমর্থকরা পাল্টা জামির হোসেনের দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর চালায়। উভয় পক্ষের এই উত্তেজনা রূপ নেয় বড় সংঘর্ষে।
গত শনিবার সকালে জামির হোসেনের সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আব্দুর আওয়ালের লোকজনের বাড়িঘরে অতর্কিত হামলা চালায়। হামলায় অন্তত ৫টি বাড়িঘর ভাঙচুরসহ ভ্যানচালক একেন আলী মোল্লাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে সোমবার তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। তবে ঢাকায় পৌঁছানোর আগেই সোমবার মধ্যরাতে তার মৃত্যু হয়।
প্রতিপক্ষ জামির হোসেন দাবি করেছেন, একেন মোল্লা বেশ কয়েকদিন যাবৎ অসুস্থ ছিলেন। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও তার শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন ছিলোনা। রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে একটি স্বাভাবিক মৃত্যুকে হত্যাকাণ্ড বলে চালানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, মৃত্যুর সংবাদকে পুঁজি করে বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাট চালাতে সকাল থেকেই ঢাল, ফালাসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মাঠে নেমেছে প্রতিপক্ষরা।
বগুড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুর আওয়াল বলেন, আমার সমর্থকদের বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করা হয়। সেসময় একেন মোল্লাকে কুপিয়ে জখম করে প্রতিপক্ষরা। আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আইনের মাধ্যমেই বিচার চাই।
শৈলকুপা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হুমায়ুন কবির মোল্ল্যা জানান, এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এখনো কাউকে আটক করা হয়নি। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে এলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।
ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিল্লাল হোসেন জানান, সামাজিক ও রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষে আহত এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। এলাকার পরিস্থিতি এখন পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িতদের আটকে পুলিশি অভিযান চলছে। তিনি বলেন, একেন আলী মোল্লা আহত হওয়ার পর যে মামলাটি করা হয়েছিল সেটা হত্যা মামলায় রূপান্তরিত করা হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









