খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার মেরুং ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পনছড়ি সীমান্তবর্তী এলাকায় একটি ছোট খালের ওপর স্থায়ী সেতু না থাকায় বছরের পর বছর বাঁশের তৈরি অস্থায়ী সাঁকো ব্যবহার করে চলাচল করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রতিদিন এই ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো দিয়েই স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসাগামী শতাধিক শিক্ষার্থীকে যাতায়াত করতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শুষ্ক মৌসুমে কোনোভাবে চলাচল করা গেলেও বর্ষা এলেই পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে। খালের পানি বেড়ে গেলে বাঁশের সাঁকো নড়বড়ে ও পিচ্ছিল হয়ে পড়ে, ফলে যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা থাকে। বিশেষ করে শিশু ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন অভিভাবকরা।
শিক্ষার্থীরা জানায়, প্রতিদিন বিদ্যালয়ে যেতে এবং বাড়ি ফিরতে এই সাঁকোই একমাত্র ভরসা। বৃষ্টির সময় বই-খাতা নিয়ে পার হতে গিয়ে প্রায়ই ভয় কাজ করে। অনেক সময় সাঁকো পিচ্ছিল হয়ে যাওয়ায় পড়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে একটি স্থায়ী সেতুর দাবি জানিয়ে আসলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। ফলে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি কৃষক, শ্রমিক, চাকরিজীবী ও সাধারণ মানুষকে প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সমীরণ চাকমা বলেন, ‘‘এখানে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের জন্য স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর কাছে আবেদন করা হয়েছে। অনুমোদন পাওয়া গেলে দ্রুত কাজ শুরু হবে বলে আশা করছি।’’
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মনির হোসেন বলেন, ‘‘বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।’’
এলাকাবাসীর দাবি, একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ শুধু শিক্ষার্থীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করবে না, বরং পুরো এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ করবে এবং দীর্ঘদিনের দুর্ভোগেরও অবসান ঘটাবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









