প্রেমের সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে ২ কোটি ৩২ লাখেরও বেশি টাকা আত্মসাৎ ও প্রতারণার মামলায় সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি থানার সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) মো. সোহেল উদ্দিন প্রিন্সকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
বুধবার (১ জুলাই) উভয় পক্ষের শুনানি শেষে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নাজমিন আক্তার ইভা তার জামিন বাতিল করে এই আদেশ দেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী কামরুজ্জামান শাহীন জানান, ২০২৪ সালের ১৯ আগস্ট আসামি সোহেল উদ্দিন বাদীপক্ষের সঙ্গে আপস-মীমাংসা করার শর্তে আদালত থেকে জামিন পেয়েছিলেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও তিনি কোনো আপস করেননি। আজ মামলার বাদী, সহকারী কর কমিশনার মোসা. তানজিনা সাথী আসামির জামিন বাতিলের আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এর আগে গত ৯ জুন একই আদালত আসামির বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৬ (বিশ্বাসভঙ্গ) ও ৪২০ (প্রতারণা) ধারায় অভিযোগ গঠন করেছিলেন।
মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ২০১৭ সালে ৩৬তম বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন বাদী মোসা. তানজিনা সাথী (সহকারী কর কমিশনার) এবং আসামি মো. সোহেল উদ্দিন প্রিন্স (সহকারী পুলিশ সুপার)। পরিচয়ের সূত্র ধরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং সোহেল তাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেন। সম্পর্কের সুবাদে এবং বাদী পরিবারের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তুলে সোহেল বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন অজুহাতে মোট ২ কোটি ৩২ লাখ ১১ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন।
পরবর্তীতে সোহেল বাদীকে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান এবং আত্মসাৎ করা টাকাও ফেরত দেননি। এই ঘটনায় ২০২২ সালের ২৩ নভেম্বর তানজিনা সাথী বাদী হয়ে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন।
শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবী আবুল কালাম খান দাবি করেন, অভিযুক্ত সোহেল উদ্দিন বাদীর কোনো অর্থ আত্মসাৎ করেননি। বাদী মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগে তাকে হয়রানি করছেন। তবে আদালত আসামিপক্ষের যুক্তি নাকচ করে দেন।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, কোতোয়ালি থানার সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. সোহেল উদ্দিন সম্প্রতি ছুটিতে যান। ছুটিতে থাকাকালীন ব্যক্তিগত কোনো অপরাধে বা অপকর্মে তিনি যদি কারাবন্দি হন, তবে পুলিশের অফিশিয়াল বা দাপ্তরিক কোনো দায়বদ্ধতা নেই। এটি তার সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত বিষয়।
মো. সোহেল উদ্দিন প্রিন্স চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলার মনতলা গ্রামের মৃত মো. হাবিব উল্লার ছেলে। তিনি ৩৬তম বিসিএসের মাধ্যমে পুলিশ ক্যাডারে যোগ দেন। অভিযোগ রয়েছে, কর্মজীবনে প্রবেশের পর তিনি একের পর এক নারীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে প্রতারণা করে আসছিলেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









