বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি হওয়া মোট শাকসবজির প্রায় অর্ধেকই আসে সিলেট অঞ্চল থেকে। লজিস্টিক খাতের সামান্য কিছু সমস্যার সমাধান করা গেলে সিলেট দেশের অন্যতম প্রধান রপ্তানি কেন্দ্রে পরিণত হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। সিলেটে একটি আধুনিক প্যাকেজিং সেন্টার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার (৩ জুলাই) সিলেট সদর উপজেলায় ‘জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ ২০২৬’র পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ‘‘আমরা দ্রুতই সিলেটের প্যাকেজিং সমস্যার সমাধান করব এবং সিলেটে একটি প্যাকেজিং সেন্টার স্থাপিত হবে। সিলেট থেকে সরাসরি এয়ার কার্গো সার্ভিস চালুর নির্দিষ্ট সময় এখনই বলতে না পারলেও, এটি নিয়ে আমাদের কাজ চলছে। এ বিষয়ে শিগগিরই আপনার সুখবর পাবেন।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘সিলেটের পাশাপাশি উত্তরাঞ্চলের সৈয়দপুর বিমানবন্দর থেকেও যেন চীনসহ বিশ্বের বিভিন্ন গন্তব্যে শাকসবজি ও মাছ রপ্তানি করা যায়, সেই লক্ষ্যেও সরকার কাজ করছে।’’
বাজেট নিয়ে কথা বলতে গিয়ে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানান, প্রথম বাজেটে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য—এই দুই খাতে বরাদ্দ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য হলো, ভবিষ্যতে জিডিপির ৫ শতাংশ যেন স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে বরাদ্দ করা যায়।
চা বাগানের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সংকট নিরসনে সরকারের বিশেষ পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘‘বর্তমানে অনেক চা বাগানে প্রকৃত অর্থে কোনো স্কুল নেই। এই সংকট দূর করতে একটি প্রকল্পের আওতায় ৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি কয়েকটি বাগান নিয়ে ক্লাস্টার গঠন করে ফ্রি অ্যাম্বুলেন্স সেবা চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে। সেবাপ্রার্থীদের ভোগান্তি কমাতে দেশের প্রতিটি উপজেলায় উন্নয়ন-সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে এক ছাদের নিচে আনতে একটি বহুতল ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা করছে সরকার।’’
মন্ত্রী জানান, এ বিষয়ে একটি সম্ভাব্যতা যাচাই পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফলাফল ইতিবাচক হলে শুধু সিলেট সদর নয়, দেশের সব উপজেলাতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সিলেটের যোগাযোগ ও কৃষি খাতের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘সিলেট সদর উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের সব কোডভুক্ত সড়ককে উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় আনা হয়েছে। এছাড়া পুরো সিলেট বিভাগের গ্রামীণ সড়ক (এলজিইডি) উন্নয়নের জন্য একটি বড় প্রকল্প প্রস্তুত করা হচ্ছে। কৃষি জমির জলাবদ্ধতা দূরীকরণ এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচ-সংকট নিরসনেও বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’’
বর্তমানে সিলেট এয়ারপোর্ট-লাক্কাতুরা সড়ক, শাহি ঈদগাহ-লাক্কাতুরা-সাহেব বাজার সড়ক এবং সাহেব বাজার-খাদিমপাড়া-কালাগঞ্জ বাজার সড়কসহ বেশ কয়েকটি সড়কের উন্নয়নকাজ চলমান রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের (এসএমই) বিকাশে সিলেটে নতুন সম্ভাবনার কথা জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘খাদিমপাড়া ও কোটাপাড়া এলাকায় প্রায় ২০০ একর জায়গাজুড়ে একটি নতুন শিল্পপার্ক নির্মাণ করা হবে। এই পার্কটিতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের বিকাশের জন্য সরকারি নীতি সহায়তা ও বিশেষ প্রণোদনা দেওয়া হবে।’’
অনুষ্ঠানে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের শামীম, সিলেট উন্নয়ন কতৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সদর উপজেলার ইউএনও খোশনূর রুবাইয়াৎ, সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরীসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়াও সদর উপজেলার স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









