বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) রাজনৈতিক মূল দর্শন হচ্ছে সকল ধর্মের মানুষের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং এই লক্ষ্যেই দলটি দীর্ঘকাল ধরে কাজ করে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন হবিগঞ্জ-৪ (মাধবপুর-চুনারুঘাট) আসনে বিএনপির মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী আলহাজ্ব সৈয়দ মো. ফয়সল।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) মাধবপুর উপজেলার আন্দিউড়া ইউনিয়নের দুর্গাপুর, বাকশাইর ও মীরনগর গ্রামে আয়োজিত পৃথক নির্বাচনি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আলহাজ্ব সৈয়দ মো. ফয়সল বলেন, ‘অতীতে যতবার বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে ছিল, ততবারই সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ অন্যান্য সম্প্রদায়ের মানুষ অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে তাদের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করতে সক্ষম হয়েছে। কারণ বিএনপি বিশ্বাস করে মানুষ মানুষের জন্য এবং প্রত্যেকের ধর্মীয় স্বাধীনতা ভোগ করা একটি অবিচ্ছেদ্য মৌলিক অধিকার।’
তিনি আরো বলেন, মানুষের বেঁচে থাকা, স্বাধীনভাবে চলাফেরা করা এবং নিজস্ব রাজনৈতিক আদর্শ লালন করা প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার আর এই অধিকারে হস্তক্ষেপ করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বর্তমানে বাংলাদেশকে নিয়ে এক নতুন ও আধুনিক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। যেখানে কৃষক, শ্রমিক, ধর্মীয় ও সামাজিক নিরাপত্তা বিধানের মাধ্যমে দেশকে একটি পরিকল্পিত উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে এবং সেই নতুন বাংলাদেশে কোনো অন্যায়, অত্যাচার, হিংসা-বিদ্বেষ কিংবা হানাহানির স্থান থাকবে না।
সৈয়দ মো. ফয়সল তার বক্তব্যে নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের স্মৃতিচারণ করে জানান, ১৯৯১ সাল থেকে বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশে তিনি মানুষের কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন এবং দীর্ঘ এই সময়ে শত প্রতিকূলতা, অত্যাচার, জেল-জুলুম ও অসংখ্য মামলার শিকার হয়েও তিনি কখনো সাধারণ মানুষের পাশ থেকে সরে যাননি। ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে তাকে জয়যুক্ত করার আহ্বান জানিয়ে অঙ্গীকার করেন যে, নির্বাচিত হলে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসবাদ বা জোরপূর্বক দখলবাজি বরদাশত করা হবে না এবং বিশেষ করে দুর্বলের ওপর সবলের কোনো প্রকার অত্যাচার তিনি হতে দেবেন না।
চা শ্রমিকদের আশ্বস্ত করে তিনি জানান, যদি নির্বাচিত হন তবে চা শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অবসান ঘটানো হবে এবং তাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও বাসস্থানের মানোন্নয়নে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করা হবে।
নির্বাচনি সভায় স্থানীয় বিএনপির প্রবীণ নেতৃবৃন্দসহ যুবদল, ছাত্রদল ও অঙ্গ-সংগঠনের বিপুল সংখ্যক কর্মী-সমর্থক উপস্থিত ছিলেন।
পাবেল/হবিগঞ্জ


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









