দক্ষিণাঞ্চলের সামগ্রিক অর্থনৈতিক মুক্তি, শিল্পায়ন এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার পরিবর্তনের লক্ষ্যে দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বরিশাল সদর আসনের সংসদ সদস্য ও বিশিষ্ট আইনজীবী অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার। তিনি বলেছেন, ভাঙ্গা থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত ৬ লেন মহাসড়ক নির্মাণ, ভোলা সেতু বাস্তবায়ন এবং দক্ষিণাঞ্চলের শিল্পায়নের স্বার্থে গ্যাস সরবরাহ এখন সময়ের দাবি। এই অধিকার আদায়ে আমরা সবাই এক প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়েছি।
শনিবার (৪ জুলাই) দুপুরে বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটি (বিআরইউ) মিলনায়তনে আয়োজিত ‘মিট দ্য রিপোর্টার্স’ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
মজিবর রহমান সরোয়ার জানান, দক্ষিণাঞ্চলের অবহেলিত মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে এবং বাজেট বঞ্চনার বিরুদ্ধে জাতীয় সংসদে ইতোমধ্যে জোরালো বক্তব্য রাখা হয়েছে। আমাদের এই অঞ্চলের উন্নয়নের স্বার্থে বরিশাল বিভাগের ১৮ জন বিএনপির সংসদ সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়ে আমরা বৈঠক করেছি। একটি সমন্বিত রোডম্যাপ তৈরি করে এই দাবিগুলো বাস্তবায়নে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।
অতীতের আন্দোলনের স্মৃতি চারণ করে সাবেক মেয়র বলেন, জোট সরকারের আমলে পদ্মা সেতুসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সামগ্রিক উন্নয়নের দাবিতে মাওয়া প্রান্তের চর জানাজাতে ২১ জেলার মানুষকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে আন্দোলন করা হয়েছিল। অধিকার আদায়ে এবারও দক্ষিণাঞ্চলবাসী পিছপা হবে না।
জাতীয় বাজেট প্রসঙ্গে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে মজিবর রহমান সরোয়ার বলেন, "এত বড় মেগা বাজেটের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ অর্থই বিগত আওয়ামী লীগ সরকার লুটে নিয়ে গেছে বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর জানিয়েছেন।" বাজেটে দক্ষিণাঞ্চলের জন্য বরাদ্দ অত্যন্ত অপর্যাপ্ত উল্লেখ করে তিনি আশ্বস্ত করেন, এই বঞ্চনার চিত্র ও আঞ্চলিক বৈষম্যের বিষয়টি তিনি সরাসরি প্রধানমন্ত্রী বরাবর তুলে ধরবেন।
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আক্ষেপ করে তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পর দেশে যে ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সূচনা হওয়ার কথা ছিল, তা এখনো অধরাই রয়ে গেছে। সেই রাজনৈতিক কমিটমেন্ট আজ কোথায়? দেশে বর্তমানে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও ছাত্র সংসদ নির্বাচন নেই। ছাত্র সংসদ না থাকলে ভবিষ্যৎ দেশ গড়ার নতুন নেতৃত্ব তৈরি হবে কীভাবে, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি।
রাজনৈতিক শক্তি প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, মাঠে বর্তমানে এনসিপির পাঁচ-দশ হাজার লোকও একত্র করার মতো রাজনৈতিক সক্ষমতা নেই।
রাজনীতিতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে এই প্রবীণ নেতা বলেন, যেই রাজনীতি করুক না কেন, তাকে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনাকে ধারণ করতে হবে। আমাদের তরুণ প্রজন্মকে এই ইতিহাস সচেতন করা জরুরি। তবে যারা স্বাধীনতা যুদ্ধে সরাসরি অংশ নিতে পারেননি, স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে সুফল ভোগের ক্ষেত্রে তাদেরও সমান অধিকার রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে গণমাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের বস্তুনিষ্ঠ ইতিহাস তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।
আঞ্চলিক বৈষম্য দূরীকরণে তিনি দ্রুত বরিশাল বিভাগীয় জাদুঘর বরিশাল থেকেই পরিচালনা করার এবং সকল বিভাগীয় সরকারি কার্যালয় বরিশালেই স্থাপন করার জোর দাবি জানান।
বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি আনিসুর রহমান খান স্বপনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক খালিদ সাইফুল্লাহর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।
বক্তব্য প্রদান করেন বিআরইউ-এর সাবেক সভাপতি সুশান্ত ঘোষ, সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক নুরুল আমিন, সাবেক চেয়ারম্যান ইসরাইল পণ্ডিত, বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল আলম ফরিদ, দৈনিক আজকের পরিবর্তন-এর প্রকাশক ও সম্পাদক কাজী মিরাজ এবং বরিশাল প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুরাদ আহমেদ।
অনুষ্ঠানে বরিশালে কর্মরত ইলেকট্রনিক, প্রিন্ট ও অনলাইন মিডিয়ার বিপুল সংখ্যক সাংবাদিক এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









