শরীয়তপুরে দায়িত্ব পালনের সময় কোনো ধরনের প্রভাব বা বিশেষ পরিচয়ের তোয়াক্কা না করে স্থানীয় সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত গাড়ি থামিয়ে বৈধ কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স যাচাই করেছেন ট্রাফিক পুলিশের এক কর্মকর্তা। পরে সংসদ সদস্যও স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র দেখিয়ে ওই কর্মকর্তার দায়িত্বশীলতার প্রশংসা করেন। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ট্রাফিক পুলিশের পেশাদারিত্ব এবং আইনের সমতার বিষয়টি আলোচনায় আসে।
শনিবার (৪ জুলাই) বিকেলে শরীয়তপুর সদর উপজেলার আঙ্গারিয়া এলাকায় নিয়মিত ট্রাফিক তল্লাশির সময় এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শরীয়তপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আহমেদ আসলাম নিজেই ব্যক্তিগত প্রাইভেটকার চালিয়ে আঙ্গারিয়া এলাকায় যাচ্ছিলেন। এ সময় দায়িত্বে থাকা ট্রাফিক পুলিশের টাউন সাব-ইন্সপেক্টর ফজলুল দাদন নিয়মিত চেকপোস্ট কার্যক্রমের অংশ হিসেবে তার গাড়ি থামিয়ে বৈধ কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স দেখতে চান।
সংসদ সদস্য কোনো ধরনের বিশেষ সুবিধা দাবি না করে শান্তভাবে প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র প্রদর্শন করেন। উপস্থিত একজন ব্যক্তি পুরো ঘটনাটি মোবাইল ফোনে ধারণ করেন, যা পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শী আদর আহামেদ বলেন, ‘পুলিশ যখন সংসদ সদস্যের গাড়ি থামিয়ে কাগজপত্র যাচাই করছিল, তখন অনেকেই অবাক হয়ে বিষয়টি দেখছিলেন। কিন্তু সংসদ সদস্য অত্যন্ত স্বাভাবিকভাবে সব কাগজপত্র দেখিয়েছেন। এটি যেমন ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্বশীলতার পরিচয়, তেমনি আইনের প্রতি শ্রদ্ধারও একটি ইতিবাচক বার্তা।’
ট্রাফিক পুলিশের টাউন সাব-ইন্সপেক্টর ফজলুল দাদন বলেন, ‘সংসদ সদস্য সব বৈধ কাগজপত্র দেখিয়েছেন। পরে তিনি আমাকে ধন্যবাদ জানান এবং উপস্থিত সবাইকে বলেন, 'পুলিশ আমার গাড়িও চেক করেছে। আপনারাও সঠিক কাগজপত্র নিয়ে চলাচল করবেন। কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়।'
সংসদ সদস্য সাঈদ আহমেদ আসলাম বলেন, ‘আমি মনে করি এ ধরনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা থাকা প্রয়োজন। তিনি আমার গাড়ি থামিয়ে কাগজপত্র যাচাই করেছেন, এতে আমি খুশি হয়েছি এবং তাকে সাধুবাদ জানিয়েছি। আমি বিশ্বাস করি, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। আমি যদি কোনো অপরাধ করি, তাহলে আমাকেও আইনের মুখোমুখি হতে হবে। আইন সবার জন্য সমান, তাই সবারই আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া উচিত।’
স্থানীয়দের মতে, প্রভাবশালী ব্যক্তির গাড়িও নিয়ম অনুযায়ী থামিয়ে যাচাই করার মাধ্যমে ট্রাফিক পুলিশ নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের যে দৃষ্টান্ত দেখিয়েছেন, তা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রতি জনআস্থা বাড়াতে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে জনপ্রতিনিধির আইন মেনে চলার এই আচরণও সাধারণ মানুষের জন্য ইতিবাচক বার্তা হয়ে থাকবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









