উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে বরগুনাসহ দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত বহাল রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে আগামী ৭২ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন স্থানে বিশেষ করে উপকূলীয় এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
রবিবার (৫ জুলাই) আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বিজ্ঞপ্তি ও ভারী বৃষ্টিপাতের সতর্কবার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, গভীর নিম্নচাপটি সকাল পর্যন্ত পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে প্রায় ৩৪০ কিলোমিটার পশ্চিম-দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছিল। এটি পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে উত্তর উড়িষ্যা উপকূল অতিক্রম করতে পারে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গভীর নিম্নচাপ কেন্দ্রের কাছে বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় প্রায় ৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। এর প্রভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া কেন্দ্রের চারপাশে প্রায় ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। একই সঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগর উত্তাল থাকায় পায়রাসহ উপকূলীয় সমুদ্রবন্দরগুলোকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
এদিকে, দুপুর ১টা থেকে পরবর্তী ৭২ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী (৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার) থেকে অতি ভারী (৮৮ মিলিমিটারের বেশি) বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। অতিবৃষ্টির কারণে নিম্নাঞ্চলে অস্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি এবং কোথাও কোথাও স্বল্পমেয়াদি জলাবদ্ধতার আশঙ্কাও রয়েছে।
বিশেষ করে বরগুনাসহ উপকূলীয় জেলাগুলোতে দমকা হাওয়ার সঙ্গে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা থাকায় জনসাধারণকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া, উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরে যেতে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থান করার নির্দেশ দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
স্থানীয় প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখছেন। উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের সরকারি নির্দেশনা মেনে চলা এবং অপ্রয়োজনীয়ভাবে নদী ও সমুদ্রে না যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









