নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগে বিক্ষোভ মিছিল ও ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটামের ১৬ ঘণ্টার মধ্যেই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার (৬ জুলাই) সকালে নাটোর বাস টার্মিনাল এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। পরে আদালতের মাধ্যমে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলার অভিযুক্ত বাসিন্দা তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ধর্ম অবমাননাকর ও কুরুচিপূর্ণ ছবি পোস্ট করা হয়েছে-এমন অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
এর প্রতিবাদে রবিবার (৫ জুলাই) দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত গুরুদাসপুর থানা সদরসহ বিভিন্নস্থানে স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের উদ্যোগে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মশাল মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে বক্তারা দ্রুত অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে আরও কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দেন।
আরও পড়ুন: গুরুদাসপুরে ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগ, গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভ
এরপর, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার সকালে নাটোর বাস টার্মিনাল এলাকা থেকে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে গুরুদাসপুর থানা পুলিশ। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়।
গুরুদাসপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনজুরুল আলম বলেন, “স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজের সহযোগিতা এবং পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় দ্রুত সময়ের মধ্যে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আদালতের মাধ্যমে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। এলাকায় পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন আছে এবং ঘটনার তদন্ত চলমান। কেউ ব্যক্তিস্বার্থে সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধেও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজ বলেন, “উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের দায়িত্বশীল ভূমিকার কারণেই দ্রুত অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনার দায় কোনো সম্প্রদায়ের ওপর চাপানো উচিত নয়। সবাইকে শান্ত থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করতে হবে এবং হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতি বজায় রাখতে হবে।”


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









