চাঁপাইনবাবগঞ্জে মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে পৃথক অভিযানে সক্রিয় রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সর্বশেষ মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি) পৃথক দুটি অভিযানে ২৭০ বোতল ভারতীয় ইস্কাপ সিরাপ জব্দ করেছে। একই সময়ে জেলা পুলিশের বিশেষ অভিযানে মাদক মামলার ৭ জনসহ মোট ২২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে হেরোইন, স্কাফ সিরাপ, গাঁজা ও চোলাই মদ।
সোমবার (৬ জুলাই) রাতে বিজিবি গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি) পৃথক দুটি অভিযান পরিচালনা করে। প্রথম অভিযানে সোনামসজিদ বিওপির একটি বিশেষ টহল দল সীমান্ত পিলার ১৮৫/১৩-এস থেকে প্রায় ৩ কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে শিবগঞ্জ উপজেলার শাহাবাজপুর ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামের একটি পাকা সড়কে অভিযান চালিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় ২০০ বোতল ভারতীয় ইস্কাপ সিরাপ জব্দ করে।
একই রাতে চৌকা বিওপির আরেকটি টহল দল সীমান্ত পিলার ১৭৫/২-এস থেকে প্রায় ৪০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে শিবগঞ্জ উপজেলার মনাকষা ইউনিয়নের রাঘববাটি গ্রামে অভিযান পরিচালনা করে পরিত্যক্ত অবস্থায় আরও ৭০ বোতল ভারতীয় ইস্কাপ সিরাপ উদ্ধার করে। তবে দুটি অভিযানে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। জব্দ করা মাদক শিবগঞ্জ থানায় হস্তান্তরের আইনি প্রক্রিয়া চলছে।
মহানন্দা ব্যাটালিয়নের (৫৯ বিজিবি) অধিনায়ক লে. কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী জানান, সীমান্ত এলাকায় মাদক, চোরাচালান ও অন্যান্য অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে বিজিবি 'জিরো টলারেন্স' নীতি অনুসরণ করছে। দেশের যুবসমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে গোয়েন্দা নজরদারি ও নিয়মিত টহল আরও জোরদার করা হয়েছে।
অপরদিকে জেলা পুলিশের বিশেষ অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় মাদক মামলার ৭ জনসহ মোট ২২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার হওয়া ৭ জনের বিরুদ্ধে ৪টি নিয়মিত মাদক মামলা রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আরও ১৫ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
অভিযানে সদর থানা এলাকা থেকে ১০০ গ্রাম হেরোইন, শিবগঞ্জ থানা এলাকা থেকে ৭০ বোতল স্কাফ সিরাপ, ভোলাহাট থানা এলাকা থেকে ১৫ লিটার চোলাই মদ এবং জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ২ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। জব্দকৃত মাদকদ্রব্যের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় পৃথক মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস বলেন, জেলার সর্বত্র মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান চলমান রয়েছে। মাদক ব্যবসায়ী ও কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে জেলার কোথাও কিশোর গ্যাং, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড কিংবা সংঘবদ্ধ অপরাধ গড়ে উঠতে দেওয়া হবে না। সাধারণ মানুষের জানমাল ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশ সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









