চট্টগ্রামে টানা অতি ভারি বর্ষণে নগরীর বেশিরভাগ নিচু এলাকায় হাঁটু থেকে কোমর সমান পানি জমে গেছে। জলাবদ্ধতার কারণে এক প্রকার অচল হয়ে পড়েছে নগরীর দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের অর্ধবার্ষিকী পরীক্ষা । বৃষ্টির সঙ্গে পাহাড়ি ঢল ও কর্ণফুলীর জোয়ার মিলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন নগরবাসী। বন্ধ হয়ে গেছে চট্টগ্রাম কক্সবাজার রেলযোগাযোগ।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকেল ৪টা পর্যন্ত ৩৮৬ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস। এটি গত ৩৩ বছরের রেকর্ড করা সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত।
অতি বৃষ্টির কারণে পাহাড়ধসের আশঙ্কার কথাও জানানো হয়েছে। এ কারণে সোমবার সকাল থেকে নগরের ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড় থেকে বসবাসকারীদের নিরাপদে সরে যেতে মাইকিং করছে জেলা প্রশাসন।
মঙ্গলবার বিকেলে অতিবৃষ্টির কারণে দেয়াল ধসে নাসিরাবাদের রহমান নগর আবাসিক এলাকায় ১ জন নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন আরও ৩ জন। আহতরা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
জানা গেছে, অতি ভারি বর্ষণে নগরীর চকবাজার, মুরাদপুর, দুই নাম্বার গেইট, হালিশহর, পতেঙ্গা, আগ্রাবাদ, কাতালগঞ্জ, চান্দগাঁও, বাকলিয়া, মোহরা, বড়পোল, কমার্স কলেজ সংলগ্ন এলাকায় হাঁটু থেকে কোমর সমান পানি জমেছে। জলাবদ্ধতা ও ঘরে পানির প্রবেশ করার কারণে অনেক পরিবারের না খেয়ে রয়েছে।
এদিকে, বিরূপ আবহাওয়ার কারণে নগরীর অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান ও বুধবারের অভ্যন্তরীণ পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। তবে সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবী, বিমানবন্দরগামী যাত্রী, পথচারী, জরুরি প্রয়োজনে বাইরে বের হওয়া মানুষ এবং খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষের দুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়ে গেছে।
জলাবদ্ধতার প্রভাবে সড়কে গণপরিবহণের চলাচল কমে গেছে। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যাও স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক কম দেখা গেছে। ফলে প্রয়োজনীয় গন্তব্যে পৌঁছাতে সাধারণ মানুষকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে এবং চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে । সকালে জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি দেখতে বের হন সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ বিশ্বজিৎ চৌধুরী জানিয়েছেন, মঙ্গলবার (৭ জুলাই ) বিকেল ৪টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ৩৮৬ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। পাশাপাশি সাগরে ৩ নম্বর সংকেত এবং জলাবদ্ধতা ও পাহাড় ধসের সতর্কতা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে রেললাইনের ওপর পানি জমে থাকায় প্রায় এক হাজার যাত্রী নিয়ে চট্টগ্রাম নগরের ষোলশহরে আটকে ছিল কক্সবাজারগামী পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেন। মঙ্গলবার দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে ট্রেনটি আটকে পড়ে। এ প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত ট্রেনটি আটকে রয়েছে। রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হতে কত সময় লাগবে কিছুই জানাতে পারেনি পূর্বাঞ্চল রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, আজ সকাল সোয়া ৬টায় ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে ট্রেনটি। দুপুর ১২টা ৩৫ মিনিটে চট্টগ্রামের ষোলশহর স্টেশন অতিক্রম করে। এরপর কিছুদূর গিয়ে ট্রেনটি আটকে যায়।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









