সিলেটে গতকাল মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দিবাগত রাত থেকে মুষলধারে বৃষ্টি ঝরছে। বুধবার (৮ জুলাই) সারাদিন সিলেটের আকাশে সূর্যের দেখা মেলেনি। টানা বৃষ্টিতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে দিনমজুর ও খেটে খাওয়া মানুষ চরম বিপাকে পড়েছেন। আবহাওয়ার পূর্বাভাস বলছে আগামী সোমবার পর্যন্ত সিলেটে টানা বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।
টানা বৃষ্টি আর উজানের ঢলে নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। ফলে সিলেট বিভাগে আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি নদ-নদীর পানি উপচে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
আবহাওয়া অফিস সিলেটের সহকারী আবহাওয়াবিদ রুদ্র তালুকদার জানিয়েছেন, গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে বুধবার (৮ জুলাই) দুপুর ১২টা পর্যন্ত সিলেটে ১২৮ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।
সূত্র জানিয়েছে, টানা বৃষ্টি আর উজানের ঢলে আগামী ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সিলেটের সুরমা-কুশিয়ারাসহ কয়েকটি নদ-নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে নিচু এলাকাগুলোতে আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।
সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, জেলার সবকটি নদ-নদীর পানি হু হু করে বাড়ছে। আজ বুধবার বিকেল ৩টায় সুরমা নদীর কানাইঘাট পয়েন্ট পানির উচ্চতা ছিল ১১ দশমিক ১০ সেন্টিমিটার, এ নদীর সিলেট পয়েন্ট পানির উচ্চতা ছিল ৯ দশমিক ১ সেন্টিমিটার। কুশিয়ারা নদীর আমলশিদ পয়েন্ট পানির উচ্চতা ছিল ১২ দশমিক ৫৯ সেন্টিমিটার, শেওলা পয়েন্ট ১০ দশমিক ৬৫, ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে ৯ দশমিক ১২, শেরপুর পয়েন্ট ৭ দশমিক ৭০ সেন্টিমিটার।
এছাড়া সারিগোয়াইন নদীর সারিঘাট পয়েন্ট পানির উচ্চতা ছিল ৯ দশমিক ৮২ সেন্টিমিটার, নদীর গোয়াইনঘাট পয়েন্টে ৮ দশমিক ২০ সেন্টিমিটার, পিয়াইন নদীর জাফলংয়ে ৯ দশমিক ২০, লোভাছড়া নদীর লোভাছড়া পয়েন্টে ১১ দশমিক ৫৫ এবং ধলা নদী ইসলামপুর পয়েন্ট পানির উচ্চতা ছিল ৮ দশমিক ৭৩ সেন্টিমিটার।
সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী দিপক রঞ্জন দাশ এদিনকে জানান, টানা বৃষ্টিপাতের সঙ্গে উজানের ঢল নামায় নদ-নদীর পানি দ্রুতই বাড়ছে। এতে সিলেটের নিচু এলাকাসমুহে আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। তবে বৃষ্টিপাত কমে গেলে প্লাবিত অঞ্চল থেকে পানি নেমে যাবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









