আটলান্টা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফিফা প্রধান জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিতর্কের ঝড় কাটতে না কাটতেই আবার নতুন বিতর্ক।
মঙ্গলবারের রাউন্ড অফ সিক্সটিনে মিসরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ৩-২ গোলের বিতর্কিত জয়ের পর প্রশ্ন উঠেছে—ফুটবল কি আর খেলা, নাকি রাজনীতির পিয়াদা?
বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা ম্যাচের শেষ দিকে অসাধারণ কামব্যাক করলেও, মিসরের দ্বিতীয় গোল বাতিলের অস্বাভাবিক ভিএআর সিদ্ধান্ত ও পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে সমালোচনার ঝড় বইছে। মাত্র একদিন আগেই ট্রাম্প ফিফাকে ফোলারিন বালোগুনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের অনুরোধ জানান, যা ফিফা মেনে নেয়। যদিও বেলজিয়ামের কাছে ৪-১ গোলে হেরে স্বাগতিকরা বিদায় নেয়।
মেসি ফ্যাক্টর
মিসর কোচ হোসাম হাসান বেইন স্পোর্টসকে বলেন, হয়তো তারা মেসিকে টুর্নামেন্টে রাখতে চেয়েছিল। ফুটবলে কখনও কখনও কারিগরি দিকের বাইরের বাহ্যিক ফ্যাক্টর কাজ করে। বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা প্রতি স্তরেই সাপোর্ট পেয়েছে।
হাসান বিশ্বকাপে প্রকাশ্যে ফিলিস্তিনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। এমলিয়ন বিজনেস স্কুলের অধ্যাপক সাইমন চ্যাডউইক মনে করেন, এর কারণেই কিছু কর্মকর্তা ‘পক্ষপাতদুষ্ট সিদ্ধান্ত’ নিয়েছেন।
তিনি আল জাজিরাকে বলেন, ‘বালোগুন ঘটনার পর কোন সিদ্ধান্ত ন্যায়সঙ্গত, আর কোনটি বিশ্বাসযোগ্য নয়—তা বোঝা মুশকিল।’
চ্যাডউইক আরও জানান, আর্জেন্টাইন প্রেসিডেন্ট জাভিয়ের মিলেই ট্রাম্পের অন্যতম ঘনিষ্ঠ মিত্র। এই ফার-রাইট নেতা প্রায়ই ট্রাম্পের সমাবেশে যোগ দেন; ট্রাম্প তাকে তার ‘প্রিয় প্রেসিডেন্ট’ বলে আখ্যায়িত করেছেন।
‘দিনের আলোয় ডাকাতি’
ভিএআর সিদ্ধান্ত নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভের আগুন। জোসে মরিনহো ম্যাচটিকে আখ্যা দিয়েছেন ‘দিনের আলোয় ডাকাতি’। তবে ফুটবল বিশ্লেষক আলী এল গার্নি মনে করেন, ‘ডাকাতি শব্দটি হয়তো শক্ত। তবে সেই ৫০-৫০ সিদ্ধান্তগুলোতে আর্জেন্টিনাই লাভবান হয়েছে।’
গার্নির প্রশ্ন, ‘মিসরের গোলের আগের ফাউল স্পষ্ট ছিল। কিন্তু ভিএআর কতদূর পেছনে গিয়ে গোলের বৈধতা যাচাই করতে পারে? আর আর্জেন্টিনার তৃতীয় গোলের আগে মোহামেদ সালাহর ওপর একই ধরনের ফাউল হলেও ভিএআর হস্তক্ষেপ করেনি।’
চ্যাডউইক বলেন, ‘মারওয়ান আতিয়ার হালকা জার্সি টানা ও পায়ে পা দেওয়ার ঘটনা রেফারি ফাউল না ডাকলেও ভিএআর কেন সেটি ধরল—তা নিয়ে প্রশ্ন আছে।’
তারকা শক্তির প্রভাব
চ্যাডউইক ম্যাচ ফিক্সিংয়ের গুজব উড়িয়ে দিলেও স্বীকার করেছেন মেসির ‘বক্স অফিস আকর্ষণের’ প্রভাব। তিনি বলেন, ‘সন্দেহ নেই, মেসি এমন এক তারকা যাকে এই প্রতিযোগিতা হারাতে পারে না।’
তবে তিনি সমাধানও দিয়েছেন—ভিএআর কর্মকর্তাদের আলোচনা দর্শকদের শোনানো উচিত, যাতে সিদ্ধান্তের ভিত্তি স্পষ্ট হয়।
মিসরের খেলোয়াড়দের আবেগ নিয়ন্ত্রণে রাখা উচিত বলে মন্তব্য করলেও চ্যাডউইক স্বীকার করেন, ‘ভিএআর সিদ্ধান্ত তাদের প্রতারিত মনে করিয়েছে। এই প্রযুক্তি সন্দেহ কমাতেই তৈরি, কিন্তু এখানে এর ব্যবহার মানসিক প্রভাব ফেলেছে।’
বিশ্বকাপের ন্যায়পরায়ণতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা এই ঘটনা ফুটবল ও রাজনীতির সীমারেখা কতটা ঘনীভূত হচ্ছে—তা নিয়ে এখন থেকেই জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









