চাঁপাইনবাবগঞ্জ-সোনামসজিদ জাতীয় মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। প্রকল্পের সর্বশেষ অগ্রগতি অনুযায়ী, ইতোমধ্যে প্রায় ৫৫ থেকে ৬০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটিয়ে সড়কটিকে আরও নিরাপদ, প্রশস্ত ও যুগোপযোগী করে তুলতেই বাস্তবায়ন করা হচ্ছে এই প্রকল্প।
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সোনামসজিদ স্থলবন্দরের পণ্য পরিবহন আরও গতিশীল হবে, যানজট ও দুর্ঘটনা কমবে এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ উত্তরাঞ্চলের বাণিজ্য, যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমে নতুন গতি সঞ্চার হবে।
১৯৯৫ সালে নির্মিত প্রায় ৩১ দশমিক ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এই মহাসড়কটি দীর্ঘ তিন দশক ধরে সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে ভারত-বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান যোগাযোগমাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। প্রতিদিন হাজার হাজার পণ্যবাহী ট্রাক, বাস, মাইক্রোবাস ও অন্যান্য যানবাহন চলাচলের ফলে সড়কটির বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত, ভাঙন ও সংকীর্ণতার কারণে দুর্ঘটনা এবং যানজট ছিল নিত্যদিনের চিত্র। স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার মহাসড়কটি প্রশস্ত ও আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেয়।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. রায়য়ান ইমতিয়াজ জানান, প্রকল্পের আওতায় বর্তমানে ৬ দশমিক ২ মিটার প্রশস্ত সড়ককে ১০ দশমিক ৩ মিটারে উন্নীত করা হচ্ছে, ফলে যানবাহন চলাচল আরও নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় হবে। এছাড়া যানজট নিরসনের লক্ষ্যে রানীহাটি বাজার ও ছত্রাজিতপুর বাজার এলাকায় চার লেন সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে। দুর্ঘটনা কমাতে বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক সরলীকরণ, রসুলপুর মোড় ও পাইলিং মোড়ে আধুনিক ইন্টারসেকশন, ৪২ মিটার কালভার্ট, ২ হাজার ২০০ মিটার ড্রেন নির্মাণ এবং প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণ কার্যক্রমও প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ৪৮১ কোটি ৮৯ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৩৫০ কোটি টাকা সড়ক নির্মাণকাজে ব্যয় করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, কাজের অগ্রগতি সন্তোষজনক এবং বর্তমান গতি অব্যাহত থাকলে ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের আগেই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হতে পারে।
সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী নাহিনুর রহমান জানান, সোনামসজিদ স্থলবন্দর-চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহাসড়ক দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক সড়ক। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে পণ্য পরিবহনের সময় কমবে, যানজট ও দুর্ঘটনা হ্রাস পাবে এবং ভারতের সঙ্গে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।
সত্রাজিতপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম রাব্বানী ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা প্রকল্পের অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, প্রশস্ত ও আধুনিক মহাসড়ক চালু হলে যাতায়াতের সময় কমবে, দুর্ঘটনার ঝুঁকি হ্রাস পাবে এবং জেলার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি সঞ্চার হবে। তবে অনেকেই দ্রুত বিদ্যুতের খুঁটি অপসারণ ও অবশিষ্ট কাজ শেষ করার দাবি জানিয়েছেন, যাতে জনগণ দ্রুত উন্নত সড়কের সুফল ভোগ করতে পারে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের মার্চ মাসে একনেকে প্রকল্পটি অনুমোদিত হয় এবং ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে নির্মাণকাজ শুরু হয়। বর্তমানে প্রকল্পের ৫৫/৬০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হওয়ায় নির্ধারিত সময়ের আগেই পুরো প্রকল্প শেষ হওয়ার বিষয়ে আশাবাদী সংশ্লিষ্টরা।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









