আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ২-০ থেকে হারের পর হাসানের বিস্ফোরক অভিযোগ—‘মেসিকে টুর্নামেন্টে রাখতেই এসব’।
আটলান্টায় মঙ্গলবারের ম্যাচটি ছিল নাটকীয়তায় পরিপূর্ণ। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ২-০ গোলে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত ৩-২ গোলে হেরে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে গেল মিশরের। কিন্তু ম্যাচ শেষে কোচ হোসাম হাসানের মুখে শোনা গেল অন্য গল্প—‘প্রতারণা আর অন্যায়ের’।
‘আমি এটা সুন্দর করে বলতে চাই না, দুর্ভাগ্যের কথা তুলতে চাই না। আজ আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে; আমরা অন্যায়ের শিকার’। সংবাদ সম্মেলনে হাসানের এই কথাগুলো ছিল তীব্র আবেগে উদ্দীপ্ত।
ম্যাচের ১৫ মিনিটের মাথায় ইয়াসের ইব্রাহিমের হেডে এগিয়ে যাওয়ার পর মিশরের উল্লাসের মাত্রা আরও বাড়ে, যখন মোস্তাফা জিকো দ্বিতীয় গোলটি করেন। কিন্তু ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিআর) আগের পজিশনে লিসান্দ্রো মার্তিনেজের ওপর ফাউল দেখিয়ে সেই গোল বাতিল করে দেন। এরপর ক্রিস্তিয়ান রোমেরো এক গোল শোধ করলেও, প্রথমার্ধে পেনাল্টি মিস করা লিওনেল মেসি দারুণ এক শটে সমতা ফেরান। শেষ মুহূর্তে এন্সো ফার্নান্দেজের গোলে জয় নিশ্চিত হয় আর্জেন্টিনার।
তবে বিতর্ক শেষ হয়নি। মিশর দাবি করে, ফার্নান্দেজের গোলের আগে আলেক্সিস ম্যাক আলিস্টার হামদি ফাতির জার্সি ধরে টেনে ফেললেও পেনাল্টির কোনো ভিআর পর্যালোচনা হয়নি। ‘আমরা সম্মান বা ফেয়ার প্লে দেখিনি। পেনাল্টি দেওয়া হয়নি, ভিআর চেকই করা হয়নি। সবাই দেখেছে জার্সি টানা হচ্ছিল বলেন হাসান।
বেইন স্পোর্টসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মিশর কোচ হোসাম হাসান সরাসরি অভিযোগ তোলেন, ‘হয়তো তারা বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের টুর্নামেন্টে রাখতে চেয়েছিল। হয়তো মেসিকে রাখতে চেয়েছিল। ফুটবলে কখনো কখনো কারিগরি দিকের বাইরেও বাহ্যিক চাপ কাজ করে।’
এই হারের পর টুর্নামেন্টের বাকি ম্যাচ দেখা থেকে বিরত থাকার ঘোষণা দেন হাসান। তিনি আরও অভিযোগ করেন দুপুর ১২টায় ম্যাচ সূচির বিরুদ্ধে—‘যারা ম্যাচ সূচি করে তারা কখনো ফুটবল খেলেনি। দুপুর ১২টায় ফুটবল খেলা হয় না, ব্রাঞ্চ খেতে যাওয়া হয়।’
মোহামেদ সালাহ ও ওমার মারমুশ বাদে প্রায় সবাই দেশীয় লিগের খেলোয়াড় নিয়ে গড়া মিশর দলের পারফরম্যান্সে হাসান গর্বিত হলেও, এই হার তার কাছে ছিল অন্যায়ের প্রতীক।
সূত্র : আল জাজিরা


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









