কক্সবাজারের মহেশখালীতে টানা বর্ষণ ও পাহাড়ধসে শিশুসহ ১১ জন আহত হয়েছেন। প্লাবিত হয়েছে নিম্নাঞ্চল। খাদ্য সহায়তা ও অনুদান নিয়ে অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন উপজেলা প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকাল ও বুধবার (৮ জুলাই) দিবাগত রাত থেকে মহেশখালীর কালারমারছড়ায় পাহাড়ধসে ৩ জন গুরুতর আহতসহ মোট ১১ জন আহত হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আহতরা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গুরুতর আহতরা হলেন- চালিয়াতলীর আনছার মাঝির স্ত্রী রহিমা (৩৬), আলতাফ ও তার স্ত্রী নাছিমা।
এছাড়া, পাহাড়ের মাটি চাপা পড়ে পূর্ণমোহন বড়ুয়া, নিশান বড়ুয়া, ধনা বড়ুয়া, একরামুল হক (গুরা), মোহাম্মদ ফিরোজ নেজাম উদ্দীন মিয়া, মোহাম্মদ শফি আলমের পুত্র সেলিমের বসতবাড়ি ভেঙ্গেছে। এ সময় পাহাড়ি ঢলে বনপ্রহরীর অফিস ও একটি দোকান ভেঙ্গে পড়েছে।
অন্যদিকে, দ্বীপের প্রধান সড়কসহ পাহাড়ি ঢলে পৌরসভা, কুতুবজোম, ধলঘাটা ও মাতারবাড়ীর নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে হাজারো পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।
এছাড়া, উপজেলা প্রশাসন অসহায় পরিবারের মাঝে খাদ্য সহায়তা এবং আহত ১১ জনের পরিবারকে ৫ হাজার টাকা করে অনুদান দেয়। মহেশখালী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আবু জাফর মজুমদার এই তথ্যটি নিশ্চিত করেন।
উদ্ধারকারী শওকত হোসেন জানান, রাতে দোকান থেকে বাড়ি ফেরার সময় দেখতে পান, পাশাপাশি দুটি টিনসেড বিল্ডিংয়ের ওপর মাটি চাপা পড়ে আছে। সেখান থেকে আহতদের উদ্ধার করে বদরখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে তারা চিকিৎসাধীন আছেন।
আহত স্বামী-স্ত্রীর বরাতে জানা যায়, আচমকা পাহাড় ধসে পড়ে। কোনো কিছু বুঝে উঠার আগেই দুইঘর ভেঙ্গে মাটির নিচে পড়ে যায়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নে পাহাড় রয়েছে। সেখান নির্বিচারে পাহাড় কেটে ঢালুতে ঘরবাড়ি তৈরী করা হয়েছে। ফলে নির্মিত ঘরবাড়ি বর্ষা এলেই ঝুঁকিতে থাকে।
কালারমারছড়া ইউপি চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) আবু আহম্মেদ বলেন, ‘‘একটু বৃষ্টি হলেই উপজেলা প্রশাসন নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার জন্য নির্দেশনা দেয়। এলাকাগুলোতে সতর্কতা বার্তা পৌঁছাতে মাইকিং করে থাকি। কিন্তু তা কর্ণপাত না করায় আজ এহেন অবস্থা। এরপরও তাদের সুস্থতা কামনা করছি এবং আহত, ক্ষতিগ্রস্থদের কথা উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।”
মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইমরান মাহমুদ ডালিম জানান, দ্বীপবাসীকে সুরক্ষিত রাখতে বৃষ্টি বাদল উপেক্ষা করে উপজেলা প্রশাসন নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









